মির্জাপুরে ভাতার টাকা হ্যাকারদের পকেটে, সতর্কতা জারি 

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মোবাইল ফোনে ফাঁদ পেতে ভাতাভোগীদের ভাতার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত দুই সপ্তাহে এ উপজেলার ২০ থেকে ২৫ জন লোকের ভাতার (বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী) টাকা হ্যাকার চক্র হাতিয়ে নিয়েছে বলে জানা গেছে। টাকা হাতিয়ে নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রতিদিন ভাতাভোগীরা মির্জাপুর উপজেলা সমাজসেবা অফিসে ভিড় করছেন।

এদিকে ভাতাভোগীদের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার খবর জানতে পেরে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা অফিস সতর্কতা জারি করেছে। আজ মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

উপজেলা সমাজসেবা অফিস সূত্রে জানা গেছে, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অধীনে মির্জাপুরে ১৬ হাজার ৬৪০ জন বয়স্ক, ৩ হাজার ৪৩৩ জন বিধবা, ৫ হাজার ৯৯৩ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, ২৪৯ জন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী, ৪ জন হিজড়া, অনগ্রসর ১৯ জন ও অনগ্রস্বর শিক্ষার্থীসহ ২৬ হাজার ৩৫৯ জন ভাতা পেয়ে থাকেন। প্রতি মাসে বয়স্ক ভাতাভোগী ৬০০ টাকা, বিধবা ৫৫০, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ৮৫০, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী প্রাইমারি ৯০০, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী ৯৫০, অনার্স ও মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ১ হাজার ৩০০, হিজড়া ৬০০, অনগ্রসর ৫০০ ও অনগ্রসর শিক্ষার্থী ৭০০, ৮০০, ১ হাজার ও ১ হাজার ২০০ টাকা ভাতা পান। বছরে চারবার ভাতার টাকা দেওয়া হয়।

সমাজ সেবা অফিসের লোকজন লাইফ সার্ভেতে গিয়ে প্রায় দুই হাজার ভাতাভোগীকে শনাক্ত করতে পারেননি। এতে তাদের ভাতা আটকে গেছে।

উপজেলার সুকতা গ্রামের রূপ মিয়া, গোড়াই হরিরপাড়া গ্রামের মানিক পাল, হাট ফতেপুর গ্রামের চেনু বাদ্যকরের স্ত্রীর, বাওয়ার কুমারজানী গ্রামের ফিরোজর বোনের ভাতার টাকা প্রতারক চক্র হাতিয়ে নিয়েছে বলে জানা গেছে।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. খাইরুল ইসলাম বলেন, ভাতার টাকা হ্যাক করে নিয়েছে এ রকম অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বারবার সচেতন করার পরও তারা গোপন নম্বর দিয়ে দিচ্ছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিলা বিনতে মতিন বলেন, ‘এ বিষয়ে ভাতাভোগীদের সচেতন করতে আমরা ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে মাইকিং করার উদ্যোগ নিয়েছি। তাছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ভাতাভোগীদের সতর্ক করা হয়েছে।’