অনুভূতির গল্পে নির্মিত হয়েছে ওয়েব ফিল্ম ‘নীল জলের কাব্য’। যদিও এটি শুরুতে টেলিছবি হিসেবে নির্মিত হয়েছিল কিন্তু এখন মুক্তি পেতে যাচ্ছে ওয়েব হিসেবে। জাহান সুলতানার গল্পে এটি নির্মাণ করেছেন জনপ্রিয় নির্মাতা শিহাব শাহীন। এরমধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন পর পর্দায় দেখা যাবে আফরান নিশো ও মেহজাবীন জুটিকে।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার দুপুর তিনটায় ওটিটি প্লাটফর্ম আইস্ক্রিনে মুক্তি পেতে যাচ্ছে ওয়েব ফিল্মটি। এর আগে বুধবার প্লাটফর্মটির পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত হয়ে ফিল্মটি নিয়ে কথা বলেন নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীরা।
এসময় শিহাব শাহীন বলেন, ‘২০২১ সালের মার্চে আমরা এটার শুটিং শুরু করেছিলাম। এরপর করোনা মহামারী এবং নানা বাঁধা এসে দাঁড়ালো। মেহজাবীন অসুস্থ হয়ে গেল আর নিশোর ডেট পাওয়াও মুশকিল ছিল। নিশোকে ধরা যাচ্ছিল না। তিনবার ডেট পরিবর্তন করতে হলো। কাজটা শেষ করে দর্শক পর্যন্ত নিয়ে আসা এবং আইস্ক্রিন প্লাটফর্মের মাধ্যমে এরকম একটা আয়োজন নিয়ে সামনে আসবো-এরকম ভাবনায় ছিল না। অবশ্য এরজন্য পুরো ক্রেডিটটা পাবে মেহজাবীন চৌধুরী। একটা সিঙ্গেল মানুষ যদি চেয়ে থাকে যে এই গল্পের কাজটা হোক এবং দর্শক পর্যন্ত পৌঁছাক- সেটা মেহজাবীন। সে কাজটার জন্য মন থেকে লেগে ছিল। এরপর কাজটা শেষ করতে পেরেছি। আমরা অনেক ভাগ্যবান যে এটা আইস্ক্রিনের মত প্লাটফর্মে যাচ্ছে।’
‘নীল জলের কাব্য’ প্রসঙ্গে এই নির্মাতা বলেন, ‘এখন ওটিটিতে যে ধরণের কাজ হয় এটা একদমই তার বাইরে ভিন্ন ধরণের কনটেন্ট। থ্রিলার জনরার চাহিদার কারণে এখন ফ্যামিলি ড্রামা বা মধ্যবিত্তের গল্পগুলো একদমই বলা হয় না। নীল জলের কাব্য একটা সাধারণ গল্প। একটা মেয়ের সমুদ্র দেখার অভিলাস বা ইচ্ছে পূরণের গল্প। আমার ধারণা, আমাদের দেশের একটা বিশাল জনগোষ্ঠী এখনও সমুদ্র দেখা থেকে বঞ্চিত। আমাদের গল্পের মূল চরিত্রটি সেই জনগোষ্ঠীকেই উপস্থাপন করছে।’
আফরান নিশো বলেন, ‘গল্পটা আমার খুব কাছের, হৃদয়ের কাছাকাছি। আমরা সবাই কাজটার জন্য লেগে ছিলাম। নিজেদের কাজের জন্যই আমরা সময় করে উঠতে পারছিলাম না। সবার চাওয়া এক হওয়াতেই আমরা সেটা শেষ করতে পেরেছি। নীল জলের কাব্য একটা ছোট্ট অনুভূতির গল্প, সহজ গল্প। সহজ জিনিসটাই অনেক সময় খুব কষ্টসাধ্য হয়। মানুষের ভেতরে ছোট্ট একটি ইচ্ছা ক্রমান্বয়ে লালিত হয়, সেটা পূরণ করতে কতটা পথ পাড়ি দিতে হয়, সেই জার্নিটা দেখা যাবে এখানে। আমার বিশ্বাস কাজটা খুব সহজেই আপনাদের হৃদয়ে পৌঁছাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সমাজে নারীকেন্দ্রিক গল্পগুলো কেন জানি দর্শকনন্দিত হতে চায় না বা হয় না। এটা আমরা পুরুষদের কারণে কিনা, জানি না। কিন্তু আমি সবসময় এটা অনুভব করি, মেহজাবীনের সঙ্গে কাজের সময়ও, কেন একটি নারীকেন্দ্রিক গল্প দর্শক লুফে নেয় না। পুরুষরা যখন কেন্দ্রীয় চরিত্রে কাজ করে, তখনই কেন সেটা সমাদৃত হয়। ওটিটির ক্ষেত্রেও এরকম দেখা যায়। এ কারণে নির্মাতারাও চান পুরুষ শিল্পীদের নিয়ে কাজ করতে।’
মেহজাবীন চৌধুরী বলেন, ‘আমার ক্যারিয়ারে কোনও কাজ এত দীর্ঘ দিন ধরে আটকে থাকেনি, এটা যত দিন আটকে ছিল। ২০২১- আমি খুব চাচ্ছিলাম একটা ব্যতিক্রম কাজ করতে। কিন্তু গল্প পাচ্ছিলাম না। একটা সময় এই গল্পটা পাই। এটা লিখেছে আমার খুবই প্রিয় একজন লেখক, জাহান সুলতানা। গল্পটা পড়ে মনে হয়েছিল খুব রিফ্রেশিং। এখানে আমার যে ক্যারেক্টার, ও ছোটবেলা থেকে বড় হয় স্কুল-কলেজ পেরিয়ে সংসার শুরু করে, পুরো জার্নিতে ওর একটাই ইচ্ছা ছিল, কক্সবাজার যাবে। শুটিংয়ে প্রথম সমস্যাটা আমিই করি। আমার চোখে সমস্যা দেখা দেয়। তারপরও আমরা চাচ্ছিলাম কাজটা করি। কিন্তু ডাক্তারের পরামর্শে আর শুটিং চালিয়ে যেতে পারিনি। এরপর ব্রেকের পর পর ব্রেক হতেই থাকলো। মনে হচ্ছিল, এত সুন্দর একটা গল্প দর্শককে দিতে চাচ্ছি, এত বাধা আসছে কেন। অবশেষে গত আগস্টে কাজটা শেষ হয়েছে। এখন সবার জন্য মুক্তি পাচ্ছে। কাজটি দেখার পর সবাই সবার মতামত জানাবেন, সঙ্গে এটাও জানাবেন আমাদের কোন কোন জায়গায় আরও ভালো করা যেত।’