‘কোকের বোতল নিয়ে আসবে, সন্ধ্যার সময় দাওয়াত রইল’

বাসে আগুন দেওয়া ও নাশকতার সঙ্গে জড়িতরা ‘কোকের বোতল নিয়ে আসবে; সন্ধ্যার সময় দাওয়াত রইলসহ বিভিন্ন সাংকেতিক ভাষায় তথ্য আদান প্রদান করে থাকে। হাতেনাতে ও বিভিন্ন কৌশলে কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের পর এমন তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) বিপ্লব কুমার সরকার। 

বুধবার (১৫ নভেম্বর) দুপুরে ডিএমপি সদরদপ্তরে তার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, তারা হাতে নাতে ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে নাশকতা করার সময়। তাদের তথ্যর ভিত্তিতে আরও অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এই ১৪ জন প্রত্যেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। 

তিনি আরও বলেন, এদের মোবাইল ফোনের তথ্য থেকে দেখা গেছে তারা সাংকেতিক ভাষায় বার্তা পাঠায়। কোকের বোতল নিয়ে আসবে, এর মানে পেট্রোল নিয়ে আসবে। সন্ধ্যার সময় দাওয়াত রইল, এ ধরনের সাংকেতিক ভাষা বা শব্দগুলো ব্যবহার করে এগুলো আমরা বুঝি। সাধারণ মানুষ এগুলো বুঝে। আমরা একেবারে উৎস পর্যায়ে নাশকতার প্রস্তুতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং কারা কারা এটি বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেককে আমরা শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছি এবং আমরা অতি দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসব।

এ কর্মকর্তা বলেন, তারা প্রতিদিনই কাউকে না কাউকে গ্রেপ্তার করছেন। সবগুলো হয়তো মিডিয়ায় আসছে না। নাশকতা দমনে ডিএমপি তার আইনগত সক্ষমতার মধ্যে থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে সব ধরনের প্রস্তুতি তারা নিচ্ছেন। তার আশা, এই সকল ব্যবস্থার মাধ্যমে খুব দ্রুত সমস্ত নাশকতার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হবেন।

রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি নিয়ে আমাদের পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য নেই উল্লেখ করে বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, তারা তাদের মতো করে কর্মসূচি গ্রহণ করবেন। এটা তাদের বিষয়। কিন্তু রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে বাস পুড়ানো, গাড়ি ভাঙচুর ও নগরবাসীর জীবন যাত্রার নষ্ট করে তবে তার বিরুদ্ধে ডিএমপি জিরো টলারেন্স।

সোসাল মিডিয়ায় গুজব ছাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, গুজব সৃষ্টি করা অনৈতিক এবং অপরাধ জনক কাজ। আপনাদের পজিটিভ নিউজটিকে বিকৃত করে নেগেটিভ ভাবে উপস্থাপন করা এটিও একটি এক ধরনের অনৈতিকতা। এরাই গাড়ি ভাঙচুর করে, নাশকতা করে, তারাই রাজনীতির নামে অপরাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তারা মানুষের মনে এক ধরনের ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। অবরোধকে সফল করতে হলে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় না গিয়ে তারা আতঙ্কজনক পরিবেশ সৃষ্টি করে অবরোধটাকে সফল করার চেষ্টা করছে।

ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার বলেন, সকল ধরনের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডকে প্রতিহত করার জন্য তাদের পোশাকধারী পুলিশ, সাদা পোশাকে গোয়েন্দারা কাজ করছে। পাশাপাশি তাদের ডিবি ও সিটিটিসি সাইবার ইউনিটসহ প্রত্যেকটি টিম তার বেষ্ট এফোর্ট দিয়ে কাজ করছে। আমরা আশা করছি অতি দ্রুতই নাশকতাকারীর সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আমরা আইনের আওতায় আনবো এছাড়া কোনো ধরনের অপতৎপরতা, অপকর্ম, ভাঙচুর ও আগুন দেওয়াসহ নাশকতায় বিন্দু পরিমাণ সহ্য করা হবে না।