জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ উৎকণ্ঠা উপেক্ষা করে একতরফা তফসিল ঘোষণা জাতির সাথে সরকার ও ইসি’র চরম উপহাস এবং প্রহসন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি ‘এবি পার্টি’।
নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত একতরফা তফসিল প্রত্যাখ্যান ও জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণকারী ইসি’র পদত্যাগ দাবি করে বুধবার বিকেল ৩টায় এবি পার্টির বিজয় নগরস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন এসব কথা বলেন।
এতে এবি পার্টি’র আহ্বায়ক এএফএম সোলায়মান চৌধুরী বলেন, প্রহসনমূলক নির্বাচনী তফসিল দেশে অচলাবস্থা ও চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার সৃষ্টি করবে। জনগণকে যার যার অবস্থান থেকে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে সমর্থন দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক মহল যে সংলাপের চিঠি দিয়েছে তাকে আমরা সমর্থন জানাই। আমরা আশা করব, সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে এবং প্রহসনমূলক নির্বাচনের অশুভ চক্রান্ত পরিত্যাগ করে সংলাপের মাধ্যমে তারা বর্তমান সংকট উত্তরণের দায়িত্বশীল ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে। এই সংলাপে বিরোধীদলগুলো যাতে মুক্ত, অবাধ ও কার্যকরভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে সেজন্য বিরোধীদলগুলোর সকল নেতাকর্মীকে তাৎক্ষণিকভাবে মুক্তি দেয়ার জন্যও সংবাদ সম্মেলনে দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে এবি পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক তাজুল ইসলাম বলেন, ইন্দোপ্যাসিফিক অঞ্চল আন্তর্জাতিকভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এমতাবস্থায় এবি পার্টি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছে আমরা গণতন্ত্র, সুশাসন, মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী কারো সঙ্গে নেই, আমরা বাংলাদেশকে আরেকটি উত্তর কোরিয়া হতে দিতে পারি না। আমরা গণতান্ত্রিক বিশ্বের সাথে আছি যারা আমাদের উন্নয়ন অংশীদার, স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পার্টির সদস্য সচিব মজিবুর রহমান মন্জু। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের মানুষের প্রাণের দাবি একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। যে দাবিতে এবি পার্টিসহ দেশের প্রধান বিরোধী সকল রাজনৈতিক দল আজ আন্দোলন করছে। গত ২৮শে অক্টোবর বিরোধী দলসমূহের সমাবেশে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সকল সংগঠন এবং পুলিশ একত্রে হামলা চালিয়ে তা পণ্ড করে দেয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
২৮ অক্টোবরের ঘটনাকে পুঁজি করে সারাদেশে প্রায় ১৫ হাজারের অধিক বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করে কারাবন্দি করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি সমাবেশের নামে সরকারি দল পুলিশ পাহারায় বিরোধী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উপর হামলা চালিয়ে দেশকে সংহিতার পথে ঠেলে দিয়েছে। গার্মেন্ট শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলনে পুলিশ ও সরকারি দলের গুন্ডা বাহিনী হামলা করে, গুলি করে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর তিনি নিন্দা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য চলমান যে আন্দোলন, সংগ্রাম ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি তার প্রতি এবি পার্টির সংহতি ও সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। নির্বাচনী তফসিল প্রত্যাখ্যান করে আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিকাল তিনটায় আওয়ামী দলবাজ নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগের দাবিতে লালকার্ড প্রদর্শন ও মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভুইয়া, বিএম নাজমুল হক, আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, সিনিয়র সহকারী সদস্য সচিব আনোয়ার সাদাত টুটুল, যুবপার্টির আহ্বায়ক এবিএম খালিদ হাসান, সহকারী সদস্য সচিব এম আমজাদ খানসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।