বীমার প্রতি আস্থার সংকট দূর করতে সকলকে ভূমিকা রাখতে হবে

কয়েকটি বীমা কোম্পানি সময়মতো দাবী পরিশোধ করতে না পারায় বীমার প্রতি কিছুটা আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। সেসব কোম্পানি বিরুদ্ধে অপপ্রচার না চালিয়ে কীভাবে তাদের মূলধারায় নিয়ে আসা যায় এবং দাবী পরিশোধে সক্ষম হতে পারবে এ ব্যাপারে সকলকে ভূমিকা রাখতে হবে।

বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানির অডিটোরিয়ামে ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স ও ইনস্যুরেন্স রিপোর্টার্স ফোরামের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন। কর্মশালায় ইনস্যুরেন্স রিপোর্টার্স ফোরামের প্রায় ৪০ সদস্য অংশ গ্রহণ করেন।

‘বীমা কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন বিশেস্নষণ’ শীর্ষক উক্ত কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স ফোরামের সভাপতি ও পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা বি এ ইউসুফ আলী। সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্সের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এন্ড সিইও মো. কাজিম উদ্দিন। এতে আইআরএফ সভাপতি গাযী আনোয়ারুল হক ও সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সুমন বক্তব্য রাখেন।  

বি এ ইউসুফ আলী বলেন, কয়েকটি বীমা কোম্পানি যথাসময়ে গ্রাহকের দাবী পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় আস্থার সংকটে পড়েছে বীমা খাত। বীমা টাকা কোম্পানিগুলোর কাছে আমানত হিসেবে থাকে। কিন্ত অনেক কোম্পানি ‘ইসলামী ইন্সুরেন্স’ নাম দিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তা আর ফেরত দিচ্ছে না, যা এক প্রকার গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা।

তিনি আরও বলেন খারাপ কোম্পানিগুলোকে ভালো করার উদ্যোগ নিতে হবে। কোনো একটি কোম্পানি একদিনেই দুর্বল কোম্পানিতে পরিণত হয় না। যখন কোনো কোম্পানি যথাসময়ে গ্রাহকদের দাবী পরিশোধ করতে পারছে না তখনই নিয়ন্ত্রক সংস্থার উচিত সেই কোম্পানিতে গ্রাহকের টাকা কোথায় আছে সেটি খুঁজে বের করা।

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) নানা আইন কানুনের মাধ্যমে এ খাতের শৃঙ্খলা আনার চেষ্টা চালাচ্ছেন। নিয়ন্ত্রণ সংস্থার পাশাপাশি কোম্পানিগুলোকেও গ্রাহকের দাবী পরিশোধের বিষয়ে আন্তরিক হতে হবে।

ন্যাশনাল লাইফের সিইও মো. কাজিম উদ্দিন বলেন, বীমা খাতের সঠিত তথ্য গ্রাহকের কাছে পৌঁছানো দায়িত্ব সাংবাদিকদের। কিন্ত তার আগে এ খাতের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান থাকা আবশ্যক। একমাত্র প্রশিক্ষণের মাধ্যমেই তা করা সম্ভব।

বীমা দাবি পরিশোধ না করলে কোনো কোম্পানির পক্ষেই গ্রাহকের আস্থায় পৌঁছানো সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ন্যাশনাল লাইফে বীমা দাবীর টাকা এক ঘন্টার মধ্যে গ্রাহককে পরিশোধ করার ব্যবস্থা রয়েছে।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত ন্যাশনাল লাইফ ৬১ লাখ গ্রাহককে বীমা সেবার আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছে।  সর্বমোট প্রিমিয়াম আয় করেছে ১৬,০১৯ কোটি টাকা। কোম্পানির লাইফ ফান্ডের পরিমাণ ৪৯৩০ কোটি টাকা ও বিনিয়োগ ৫০৩৬ কোটি টাকা রয়েছে বলে জানান কাজিম উদ্দিন। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের বীমা কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন ন্যাশনাল লাইফের সিএফও প্রবীর চন্দ্র দাস এফসিএ।