পোশাক খাতে নির্ভরশীলতা কমাতে বলল ইইউ

বাংলাদেশকে রপ্তানি আয়ে পোশাক খাতের ওপর নির্ভরশীলতা থেকে বেরিয়ে আসতে বলেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সঙ্গে বৈঠকে এ পরামর্শ দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ইইউর পরামর্শ ছিল, আপনারা (বাংলাদেশ) আরএমজি খাতের ওপর অনেকখানি ডিপেন্ডেন্ট, অন্য সোর্সগুলোতেও চেষ্টা করেন। উৎপাদনে বৈচিত্র্য এলে বাংলাদেশের জন্য যেমন ভালো হবে, তেমনই ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য ভালো হবে। চীন থেকে ডিপেন্ডেন্সিটা একটু শিফট করতে চাই।

ইইউর সঙ্গে আর কী কী বিষয়ে কথা হয়েছে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জিএসপি নিয়ে কথা হয়েছে। এটি নিয়ে এর আগে তারা বিভিন্ন জায়গায় কথা বলেছেন। এগুলো নিয়ে কাজ চলছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) পর্যবেক্ষণ নিয়েও কথা হয়েছে। এর বাইরে বাকি কিছু থাকলেও তা নিয়ে কাজ চলছে।

শ্রমিক আন্দোলন কিংবা নির্বাচন নিয়ে কোনো কথা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাজনীতি নিয়ে কোনো আলোচনা ছিল না।

একই দিনে পোশাক খাতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও বৈঠক করে এ প্রতিনিধিদলটি। এ সময় দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের টেকসই উন্নয়ন এবং পোশাক শ্রমিকদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে পোশাক শিল্পের অগ্রগতি আরও ত্বরান্বিত করতে ইইউকে সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।

বুধবার ইউরোপিয়ান এক্সটারনাল অ্যাকশন সার্ভিসের (ইইএএস) এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) পাওলা পাম্পালোনির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠককালে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান এ আহ্বান জানান।

ইইএএস, ডিরেক্টরেট জেনারেল ফর ট্রেড এবং ডিরেক্টরেট জেনারেল ফর এমপ্লয়মেন্ট, সোশ্যাল অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড ইনক্লুশন-এর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের জটিল ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনা করেন বলে জানিয়েছে বিজিএমইএ।

প্রসঙ্গত, এই প্রথম ইইউর উচ্চ পর্যায়ের কোনো প্রতিনিধিদল বিজিএমইএ পরিদর্শন করল।

এ সময় ফারুক হাসান সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরিতে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির প্রতিও ইউরোপীয় প্রতিনিধিদলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির মাধ্যমে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মানের উন্নয়ন ঘটাতে শিল্পের দৃঢ় সংকল্পেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। তিনি শ্রমিকদের জন্য জীবনমান নিশ্চিত করতে ব্র্যান্ড এবং  ক্রেতাদের নতুন ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করার জন্যও আহ্বান জানান।

ইইউর প্রতিনিধিদলকে ফারুক হাসান বলেন, বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের সাফল্যে ইইউ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, বিশেষ করে এভরিথিং বাট আর্মস (ইবিএ) স্কিমের অধীনে প্রদত্ত বাজার সুবিধা শিল্পে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি বাংলাদেশের এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন নির্বিঘœ রাখতে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে জিএসপি (ইবিএ)-এর ট্রানজিশন পিরিয়ড ৩ বছর থেকে এখন ৬ বছর বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য আহ্বান জানান। তিনি বাংলাদেশের এলডিসি গ্রাজুয়েশনের পর জিএসপি প্লাস   থেকে সুফল পেতে বাংলাদেশের প্রতি ইইউ’কে সমর্থন প্রদানের অনুরোধও জানান। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে পোশাক খাতের গুরুত্বপূর্ণ অবদান বিবেচনায় রেখে এ খাতের প্রতি ইইউ-এর সমর্থন ও সহযোগিতা প্রদান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও আশা করেন এ ব্যবসায়ী নেতা।

প্রতিনিধিদলে ছিলেন মনিকা বাইলাইট, ডেপুটি হেড অফ ডিভিশন, এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক-সাউথ এশিয়া,  ইইএএস; মার্টেন ওয়েস্টরুপ, ইইএএস ট্রেড কো-অর্ডিনেটর,  গ্লোবাল.জিআই.১-ট্রেড, ইইএএস; এলিনা বোইসিউক, ডেপুটি হেড অব ইউনিট, ডিরেক্টরেট জেনারেল ফর ট্রেড (ডিজি ট্রেড), ইউরোপীয় কমিশন; আলেসান্দ্রো টোনোলি, পলিসি অফিসার, ডিরেক্টরেট জেনারেল ফর ট্রেড (ডিজি ট্রেড) প্রমুখ।