ডিন হিসেবে ইউজিসি সদস্য হলেন কুবি উপাচার্য

উপাচার্য হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) খ-কালীন সদস্য হওয়ার সুযোগ থাকলেও ডিন হিসেবেই এ সুযোগ নিয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম আবদুল মঈন। ইউজিসির আদেশ অনুযায়ী, পালাক্রমে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন অথবা জ্যৈষ্ঠ অধ্যাপকের খন্ডকালীন সদস্য হওয়ার কথা রয়েছে। তবে উপাচার্য এ সুবিধা নেওয়ায় বঞ্চিত হয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। তারা বলছেন, ইউজিসির আইনে পদটি শিক্ষকদের প্রতিনিধির জন্য রাখা হলেও উপাচার্য নিজ ক্ষমতাবলে শিক্ষকদের বঞ্চিত করেছেন। তবে এসব বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেও তার মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন আদেশ, ১৯৭৩ এর ৪(১)(ডি) অনুযায়ী, তিনটি করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুই বছর মেয়াদে পালাক্রমে একজন করে ডিন অথবা অধ্যাপক ইউজিসির খ-কালীন সদস্য হবেন। এ ধারা অনুযায়ী, গত ২৫ সেপ্টেম্বর ইউজিসির সচিব ড. ফেরদৌস জামান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরও দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে একজন করে ডিন অথবা অধ্যাপককে খ-কালীন সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। সে চিঠির বিপরীতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আইন অনুষদের ডিনের দায়িত্ব পালনকারী হিসেবে নিজের নাম প্রদান করেন। গত ২৯ অক্টোবর ইউজিসির সচিব বরাবর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মো. আমিরুল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে উপাচার্যকে খ-কালীন সদস্য মনোনয়নের জন্য অনুরোধ করা হয়।

যদিও মঞ্জুরি কমিশনের আদেশের ৪(১)(সি) ধারায় উপাচার্যরাও একই শর্তের ভিত্তিতে আলাদাভাবে খন্ডকালীন সদস্য হবেন বলে উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ ইউজিসির নিয়ম অনুযায়ী উপাচার্য ও ডিন বা অধ্যাপক উভয়ই আলাদাভাবে খ-কালীন সদস্য হবেন। তবে উপাচার্য হয়েও আইন অনুষদের ডিন হিসেবে এ পদ নিয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম আবদুল মঈন।

এদিকে ইউজিসি সচিবের চিঠি প্রেরণের এক সপ্তাহ আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম আবদুল মঈন আইন অনুষদের নতুন ডিনের দায়িত্ব পালন করবেন বলে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. আমিরুল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশ জারি করা হয়।

বিষয়গুলোকে উপাচার্যের ক্ষমতার অপব্যবহার বলে দাবি করছেন শিক্ষকরা। এ বিষয়ে শিক্ষকদের মধ্যে সমালোচনা শুরু হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ১০ অধ্যাপকের সঙ্গে কথা হয় প্রতিবেদকের। তারা বলছেন, ইউজিসি থেকে চিঠি আসার বিষয়ে তাদের জানানোই হয়নি। যেহেতু বিষয়টি অধ্যাপক ও ডিনসংক্রান্ত; সেহেতু অধ্যাপক বা ডিনদের জানানো কিংবা তাদের মতামত নেওয়া ন্যূনতম সৌজন্যতা। তবে উপাচার্যের বিরাগভাজন হওয়ার আশঙ্কায় সরাসরি কথা বলতে আগ্রহী নন তারা।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ছয়টি অনুষদ রয়েছে। এ বিষয়ে সব অনুষদের ডিনের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করে চারজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়। এর মধ্যে তিনজনই এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে সামাজিকবিজ্ঞান অনুষদের ডিন এনএম রবিউল আউয়াল চৌধুরী এ বিষয়ে অবগত আছেন দাবি করে বলেন, ‘এখানে (ইউজিসি) যেহেতু দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করা লাগবে, তাই হয়তো এটা (উপাচার্যের নিজের নাম প্রস্তাব) করা হয়েছে। এটা নিয়ে কাকে প্রস্তাব দেওয়া হবে, এ ব্যাপারে আমাদের কাউকে কিছু বলা হয়নি।’

আরেকজন ডিন বলেন, উপাচার্য নৈতিকভাবে এটি করতে পারেন না। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ব্যক্তি হয়েও নিজ ক্ষমতাবলে শিক্ষকদের তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করছেন। বিষয়গুলো ভালো দৃষ্টান্ত তৈরি করে না। আদতে যা বিশ্ববিদ্যালয়েরই ক্ষতি।

এ বিষয়ে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘আমরা তাকে ডিন হিসেবে নিয়োগ দিয়েছি। অধ্যাপকদের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের আভ্যন্তরীণ। এ বিষয়ে আমি মন্তব্য করতে পারব না।’