গাজীপুরের শ্রীপুরে পুলিশের বিরুদ্ধে বিএনপির এক নেতার বাসায় অভিযানে গিয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে পৌরশহরের মাওনা বকুলতলা বেপারিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এরপর থেকেই পুলিশের এই কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বাসার প্রধান ফটক টপকে বাসার ভেতরে অন্তত ১০ থেকে ১২ জন পুলিশ ঢোকে।
এরপর সেখানে সিসি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন আসবাব ভাঙচুর করা হয়। এ সময় পুলিশ সদস্যরা একটি স্কুটি মোটরবাইকও ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। যদিও পুলিশ বলছে, নাশকতা মামলার আসামি ধরতে অভিযান চালানো হয়। তবে ভাঙচুর করা হয়নি।
পুলিশের ভাঙচুরে ক্ষতিগ্রস্ত বিএনপি নেতা বিল্লাল বেপারি (৪৮)। তিনি পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। তিনি ও তার পরিবার গ্রেপ্তার আতঙ্কে বাসাবাড়ি ছেড়ে বেশ কিছু দিন ধরে পলাতক রয়েছেন।
বিএনপির অভিযোগ শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নয়ন ভূঁইয়া এ অভিযানের নেতৃত্ব দেন। এ সময় পুলিশের পোশাক পরিহিত আরও ১০ থেকে ১২ জনকে দেখা যায়।
এলাকাবাসী জানান, রাত একটার দিকে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য বকুলতলা বেপারিপাড়া এলাকার বিএনপি নেতা বিল্লাল বেপারির বাসার প্রধান ফটকে এসে গাড়ি নিয়ে থামেন। এ সময় বাসার মেইন গেইট বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। পরে পুলিশ সদস্যরা গেইটের তালা ভাঙতে চেষ্টা করেন। তালা ভাঙতে না পেরে গেইটের ওপর দিয়ে টপকে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে সেখানে একটি গ্যারেজে রাখা বেশকিছু আসবাবপত্র ভাঙচুর করে পুলিশ। এ সময় একটি স্কুটি মোটরসাইকেলও ভেঙে ফেলে তারা।
পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল বেপারি অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ গেইট টপকে বাসার ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর করেছে। তারা সিসি ক্যামেরা, হোন্ডা, চেয়ার-টেবিলসহ নানা আসবাব ভেঙে ফেলে। এ সময় পুলিশ ঘরের ভেতরে তালা ভেঙে ঢুকার চেষ্টা করে। ঘরের সদর দরজা ফিঙ্গার লক থাকায় ভাঙতে পারেনি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘গত দুই সপ্তাতে অন্তত ২০ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। আর মঙ্গলবার রাতে এসআই নয়ন ভূঁইয়া একদল পুলিশ নিয়ে এমন তাণ্ডব চালিয়েছে আমার বাসাতে।’
কেন্দ্রীয় বিএনপির সহস্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, এক দফা দাবির আন্দোলন বন্ধ করতেই পুলিশ এমন ধরপাকড় চালাচ্ছে। পুলিশ আতঙ্ক ছড়াচ্ছে নেতাকর্মীদের বাড়িতে রাত বিরাতে অভিযান চালিয়ে। অবরোধ আন্দোলনে সক্রিয় নেতাকর্মীদের টার্গেট করে পুলিশ অভিযান করছে।
শ্রীপুর মডেল থানার এসআই নয়ন ভূঁইয়া ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি (বিল্লাল বেপারি) নিয়মিত মামলার আসামি। তার নামে একাধিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ধরতে যাওয়া পুলিশের রুটিন কাজ। সে কাজের অংশ হিসাবে মঙ্গলবার তার বাসাতে অভিযানে যায় পুলিশ।
শ্রীপুর মডেল থানার ওসি আবুল ফজল মোহাম্মদ নাসিম জানান, পুলিশ নিয়মিত ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ধরতে আদালতের নির্দেশ পালন করে থাকে। অহেতুক কাউকে হয়রানি করা পুলিশের কাজ নয়। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ কাজ করছে।