বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিন্মচাপের প্রভাবে উপকুলীয় বাগেরহাটে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন। বিকেল থেকে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোংলা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। মোংলা বন্দরের অবস্থান নেয়া জাহাজে পণ্য ওঠানামার কাজ স্বাভাবিক রয়েছে।
এদিকে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিন্মচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ায় তা মোকাবিলা করতে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হয়েছে। ঝড় মেকাবিলায় বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা প্রশাসক মোহা. খালিদ হোসেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের নিয়ে জুমে ভার্চুয়াল একটি জরুরি সভা করেন।
ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সাধারণ মানুষকে আশ্রয় দিতে জেলার ৩৫৯টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে পারবে দুই লাখ ৩৫ হাজার মানুষ। উপকূলীয় এলাকার মানুষদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে আড়াই হাজারের অধিক রেডক্রিসেন্ট ও সিপিপি’র সেচ্ছাসেবক প্রস্তুত করেছে জেলা প্রশাসন। প্রস্তুত রাখা হচ্ছে শুকনা খাবার। দূর্যোগ মোকাবিলায় নগদ ৯ লাখ টাকা ও ৬৫০ মেট্রিকটন চাল মজুদ রাখা হয়েছে। সাগর উত্তাল থাকায় মাছ ধরার ট্রলারগুলো নিরাপদে রয়েছে।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহা. খালিদ হোসেন এই প্রতিবেদককে বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় ইতোমধ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা করেছি। চাল ও নগদ অর্থ মজুদ রয়েছে। জেলার সকল সাইক্লোন সেল্টারগুলো প্রস্তুত করা হচ্ছে। দুর্যোগ প্রবণ এলাকার জনগণকে সরিয়ে নেয়ার প্রচারণা শুরু হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার আগেই সবাইকে নিরাপেদ সরিয়ে নেয়ার জন্য সেচ্ছাসেবক প্রস্তুত করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধগুলো মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছেন। সবার সহযোগিতা নিয়ে দুর্যোগ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
মোংলা বন্দর কতৃপক্ষের হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ শাহীন মজিদ রাতে এই প্রতিবেদককে বলেন, ঘুর্ণিঝড় মোকাবিলা করতে বন্দর কর্তৃপক্ষ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। বন্দরে বর্তমানে সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল ক্লিলিংকার, ইউরিয়াসারসহ মোট ১৭টি বিদেশি জাহাজ অবস্থান করছে। বন্দরে অবস্থান নেয়া জাহাজে পণ্য ওঠানামার কাজ স্বাভাবিকভাবে চলছে।