শুক্রবারে সুরা কাহাফ তেলাওয়াতের ফজিলত

পবিত্র কোরআন মাজিদে মোট ১১৪টি সুরা রয়েছে। তন্মধ্যে সুরা কাহাফ অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি সুরা, যা মক্কায় অবতীর্ণ হয়। এ সুরার আয়াত সংখ্যা ১১০। নিয়মিত এ সুরার তেলাওয়াতে অসংখ্য সওয়াবের কথা বিভিন্ন হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। বিশেষ করে জুমার দিনে এ সুরা তিলাওয়াতে রয়েছে অনেক সওয়াব ও ফজিলত।

পৃথিবীতে সবচেয়ে ভয়াবহ ফেতনা হলো- দাজ্জালের ফেতনা। এ ফেতনা এতই ভয়াবহ যে, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনে দাজ্জালের ফেতনা সংঘটিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা ছিল না, তবুও তিনি প্রত্যেক নামাজের পরে দাজ্জালের ফেতনা থেকে বাঁচার জন্য দোয়া করতেন। আমাদের জন্য আশার বাণী হচ্ছে, যদি সুরা কাহাফের প্রথম ১০ আয়াত মুখস্থ করি তাহলে দাজ্জালের ফেতনা আমাদের স্পর্শ করতে পারবে না। হজরত আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি সুরা কাহাফের প্রথম দশ আয়াত মুখস্থ করবে সে দাজ্জালের ফেতনা থেকে হেফাজত থাকবে।’ -সহিহ মুসলিম : ৮০৯

অন্য এক হাদিসে এসেছে, হজরত নাওয়াস ইবনে সাময়ান (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি দাজ্জালকে পাবে, সে যেন সুরা কাহাফের শুরুর অংশ পড়ে।’  -সহিহ মুসলিম : ২৯৩৭

সুরা কাহাফ দাজ্জালের ফেতনা থেকে বাঁচানোর পাশাপাশি তেলাওয়াতকারীর জন্য আলো হবে। হজরত আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, যে ব্যক্তি সুরা কাহাফ যেমনভাবে নাজিল হয়েছে সেভাবে পড়বে, তার জন্য কেয়ামতের দিন সেটা নূর (আলো) হবে। -শোয়াবুল ঈমান : ২২২১

অন্য এক হাদিসে এসেছে, হজরত আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যেমনভাবে নাজিল করা হয়েছে, সেভাবে যে ব্যক্তি সুরা কাহাফ পড়বে, তার জন্য সেটা নিজের স্থান থেকে মক্কা পর্যন্ত আলো হবে এবং যে শেষ দশ আয়াত পড়বে, সে দাজ্জালের গণ্ডির বাইরে থাকবে এবং দাজ্জাল তার ওপর কোনোরূপ প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না। -সুনানে নাসাঈ : ১০৭২২

সুরা কাহাফের অলৌকিক এক ফজিলত অন্য এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে এভাবে, হজরত বারা ইবনে আজেব (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাতে সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করছিলেন। তার কাছে দুটি রশি দিয়ে একটি ঘোড়া বাঁধা ছিল। এরই মধ্যে একটি মেঘখণ্ড এসে তাকে ঘিরে ফেলে। এরপর যখন মেঘখণ্ডটি তার খুব কাছে চলে আসছিল, তখন তার ঘোড়া ছোটাছুটি করতে লাগল। সকালে ওই ব্যক্তি রাসুল (সা.)-এর কাছে এসে রাতের ঘটনা জানালেন। তিনি বললেন, ওটা ছিল সাকিনা (আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ রহমত), যা কোরআন তেলাওয়াতের বরকতে নাজিল হয়েছিল। -সহিহ বোখারি : ৫০১১, ৩৬১৪

জুমার দিনে সুরা কাহাফ তেলাওয়াতের ভিন্ন ফজিলতও হাদিসে বর্ণিত আছে। হজরত আবু সাঈদ আল খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী কারিম (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা আল কাহাফ পড়বে, তার (ইমানের) নুর এ জুমা থেকে আগামী জুমা পর্যন্ত চমকাতে থাকবে। -মিশকাত : ২১৭৫