বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘুর্ণিঝড় মিধিলি’র প্রভাবে উপকূলীয় বাগেরহাটের ২৫ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। এসব গ্রাহকদের সংযোগ পুনঃস্থাপন করতে কাজ করছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। শনিবার (১৮ নভেম্বর) দুপুরের দিকে তারা বিদ্যুৎ সেবা ফিরে পাবে বলে জানা গেছে।
এদিকে মিধিলির প্রভাবে টানা বর্ষণ ও দমকা ঝড়ো হাওয়ায় মাঠে থাকা রোপা আমন ধানের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। তবে তা খুব বেশি নয় বলে দাবি কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের। যদিও কী পরিমাণ রোপা আমনের ক্ষতি হয়েছে তা জানতে এখনো কাজ করছে কৃষি বিভাগ।
আবার ঝড়ে কতগুলো ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত ও গাছপালা উপড়ে পড়েছে সেই খবর রাত ১০টা পর্যন্ত নিশ্চিত করতে পারেনি জেলা প্রশাসন। শুক্রবার (১৭ নভেম্বর) বিকেলের পর আকাশ মেঘলা ছিল। এ সময় থেমে থেমে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিপাত হয়।
বাগেরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) সুশান্ত রায় রাতে এই প্রতিবেদককে বলেন, মিধিলির প্রভাবে দমকা ঝড়ো হাওয়া ও টানা বৃষ্টি শুরু হলে শুক্রবার সকালে জেলার প্রায় সাড়ে তিন লাখ গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় জেলার বিভিন্ন স্থানে গাছ ও ডালপালা পড়ে বিদ্যুতের তার ছিড়ে যায়।
তিনি বলেন, ঝড় থেমে যাওয়ার পর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি তারের উপর পড়ে থাকা গাছ ও ডালপালা অপসারণ করে এবং মেরামত কাজ শুরু করে। রাত ৯টা পর্যন্ত এভাবে সোয়া তিন লাখ গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব হলেও এখনো ২৫ হাজার বাসিন্দা বিদ্যুৎহীন হয়ে আছে।
বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক শংকর কুমার মজুমদার বলেন, দমকা ঝড়ো হাওয়া ও টানা বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাঠে থাকা রোপা আমন ধানের কিছু ক্ষয়ক্ষতির খবর পাচ্ছি। শনিবার কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে যাবেন। এরপর কি পরিমাণ জমির ধানের ক্ষতি হয়েছে তা বলা সম্ভব হবে।
অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড়ে উপকূলীয় বাগেরহাটে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও কৃষি ফসলের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে জেলা প্রশাসক মোহা. খালিদ হোসেনকে একাধিকবার ফোন করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।