৬০ হাজার খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছিরা

নাটোরের সিংড়ার গ্রামাঞ্চলে শুরু হয়েছে শীতের আমেজ। রাতে ঠা-া-হিমেল বায়ু আর সকালের শিশির ভেজা ঘাস-পাতা জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে থেকেই সিংড়ার গাছিরা খেজুরের রস সংগ্রহ শুরু করেছে। সংগ্রহ করা রস থেকে গুড় তৈরির কাজও শুরু হয়ে গেছে তখন থেকেই। ফলে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন উপজেলার গাছিরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, সিংড়ার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার সড়ক, জমির আইল, বাড়ির আঙিনায় ছড়িয়ে আছে প্রায় ৬০ হাজার খেজুরের গাছ। এসব গাছের রস সংগ্রহের ওপর প্রায় দুই হাজার পরিবার নির্ভরশীল। শীত মৌসুমে ৭৫ দিনে প্রতিটি গাছ থেকে ১৭৪ কেজি রস পাওয়া যায়। আর প্রতিটি গাছের রসে গুড় উৎপাদন হয় ১৭ দশমিক ৪০ কেজি। এবার উপজেলার ৬০ হাজার খেজুর গাছ থেকে প্রাপ্ত রস দিয়ে ৭৬৫ টন গুড় তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সিংড়া পৌরসভার শোলাকুড়া মহল্লার রফিকুল ইসলাম রফু বলেন, ‘প্রতি বছর ৭০ থেকে ৮০টি গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে বাড়িতেই গুড় তৈরি করে বাজারে বিক্রি করি। কোনো কোনো সময় বাড়ি থেকেও গুড় বিক্রি হয়।’

চকসিংড়ার আজাহার শাহ্ বলেন, ‘৫০টির মতো গাছ থেকে রস সংগ্রহ করি। শীতের সময় খেজুরের গুড় তৈরি ও বিক্রি করে তার সংসার ভালোই চলে।’

উপজেলার পাঙ্গাশিয়া গ্রামের সাগর আলী বলেন, ‘প্রায় ১৫০টি গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরি করছি। এই আয়েই সারা বছর সংসার চলে।’

রাজশাহীর বাঘা ও চারঘাট উপজেলা থেকে আগত কয়েকজন গাছি জানান, এই এলাকার খেজুরের গুড় প্রসিদ্ধ। এখানকার গুড় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশেই বাজারজাত করা হয়। কোনো কোনো সময় দেশের বাইরেও পাটালি গুড় পাঠানো হয়। তাদের দাবি, বর্তমানে খেজুরের গুড় উৎপাদন খরচ এবং পরিশ্রম হচ্ছে বেশি। কিন্তু সে তুলনায় গুড়ের দাম তারা পাচ্ছেন না।

সিংড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ খন্দকার ফরিদ বলেন, ‘আমরা গাছিদের খেজুরের গাছ লাগানোর জন্য উৎসাহ ও পরামর্শ দিয়ে থাকি। আর খেজুরের গুড়ের চাহিদা সবসময় থাকে। খেজুরের রস ও গুড়কে ঘিরে কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে। গাছিরা খেজুরের রস দিয়ে গুড় উৎপাদন করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। আমরা নিরাপদ গুড় বাজারজাত করার জন্য নিয়মিত মনিটরিং করছি।’