আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দিলেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রধান বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। গতকাল শুক্রবার সকালে টাঙ্গাইলের সন্তোষে মওলানা ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকীতে মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও দোয় শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার মতো বড় দল নয়। তারপরও আমরা অসংখ্য আসনে প্রার্থী দেব। অন্য দলের লোকজনকেও আমাদের গামছা প্রতীক উপহার দেব।’
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনে নাই, জাতীয় পার্টিও টানাটানি করছে আমাদের। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করলে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব কার সঙ্গে? মানুষ ভোট দেবে কাকে? মানুষের ভোট দেওয়ার জায়গা থাকবে না।’তিনি বলেন, ‘আমরা আমেরিকায় বসবাস করি না, আমরা বাংলাদেশে বাস করি। আমেরিকা স্যাংশন দেবে এই ভয়ে আমরা বিয়ে করব না, বউ তালাক দেব, মেয়ের বিয়ে হবে না এসব চিন্তা করলে হবে না।’
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাসকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ইলেকশন নিয়ে এত দৌড়াদৌড়ি ভালো না। এটা তার দেশ না। তিনি মাত্র তিনটি দলকে চিঠি দিয়েছেন, দেশে কি আর কোনো দল নাই? আর কি কোনো মানুষ নাই?’
কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘তিনি তিনটি দলকে চিঠি দিয়ে দেশকে ভাগ করে দিয়েছেন। তিনি গর্হিত কাজ করেছেন, তিনি দেশের সংবিধান অনুযায়ী জঘন্য অপরাধ করেছেন। এ জন্যই তাকে “স্যাংশন” দেওয়া যেতে পারে এবং আইনের আওতায় আনা যেতে পারে।’
তিনি বলেন, বিএনপিতে মুসলমান আছে কি না, জানি না। বিএনপি ভোটে দাঁড়ালেও আমেরিকার সমর্থন নেওয়া বিএনপিকে মুসলমানরা ভোট দেওয়া উচিত না।
কাদের সিদ্দিকী বলেন, দেশে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়েছে, এতে অনেকেই খুশি না, আমিও না। তারপরও বলব, গণতান্ত্রিক দেশে পাঁচ বছর পরপর অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দরকার। তবে এ নির্বাচনও যদি গত নির্বাচনের মতো হয় তাহলে আওয়ামী লীগই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’