দলবদ্ধ ধর্ষণের মামলা

মূল আসামিদের না ধরে প্রধান সাক্ষীকে গ্রেপ্তার!

গাজীপুরে প্রতিবন্ধী এক নারীকে দল বেঁধে ধর্ষণের ঘটনায় হওয়া মামলার মূল আসামিদের তিন মাসেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি জয়দেবপুর থানা পুলিশ। উল্টো মামলাটির প্রধান সাক্ষী মিলনকে গ্রেপ্তার করার অভিযোগ করেছেন তার স্ত্রী। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জয়দেবপুর থানার ওসি মাহাতাব উদ্দিন। মামলার প্রধান সাক্ষী মিলনের স্ত্রী নুরনাহার অভিযোগ করে বলেন, ‘এই মামলার সাক্ষী হওয়ার পর থেকেই আমার স্বামীকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতিসহ হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে আসামিপক্ষের লোকজন। এসব বিষয় প্রশাসনের লোকজনকে জানালেও তারা কেউ সহযোগিতা করেননি; বরং আমার স্বামী আসামিদের ভয়ে আতঙ্কে ছিলেন। দুই দিন ধরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফোন দিয়ে আমার স্বামীকে দেখা করতে বলেন। পরে সকালে থানায় দেখা করতে গেলে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সেই সাক্ষী হওয়া গণধর্ষণের মামলায় আসামি করে কারাগারে পাঠিয়ে দেয় পুলিশ।’ ধর্ষণের শিকার ওই নারীও মিলনকে গ্রেপ্তার করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যারা মামলার প্রধান আসামি তাদের গ্রেপ্তার না করে উল্টো যিনি আমাকে বাঁচিয়েছেন তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ কেন তিন মাসেও মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারল না আমার জানা নেই। তবে মামলায় সাক্ষীদের হয়রানি করার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।’ এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শরীফ আহমেদ বলেন, ‘গণধর্ষণ মামলায় আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তিতে মামলার সাক্ষী মিলনকে গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িত বলে জবানবন্দি দেওয়ায় এবং আসামিদের জবানবন্দি ও ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকায় মিলনকে আসামি করা হয়েছে। তাই তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’ একই ধরনের দাবি করেন জয়দেবপুর থানার ওসি মাহাতাব উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আসামিদের আদালতে পাঠালে তারা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার সময় মামলার প্রধান সাক্ষী মিলন তাদের সহযোগিতা করেন বলে স্বীকারোক্তি দেয়। এ কারণে মিলনকে গ্রেপ্তার করা হয়।’ সদর উপজেলার মনিপুরে গজারি বনে বন্ধুকে গাছে বেঁধে শারীরিক প্রতিবন্ধী ওই নারী পোশাকশ্রমিককে দল বেঁধে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় ওই নারী নিজেই বাদী হয়ে ছয়জনের বিরুদ্ধে জয়দেবপুর থানায় মামলা করেন। মামলার পরপরই পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে। তবে গাজীপুর সদর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের এক নেত্রীর ছেলেসহ দুই আসামিকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।