মিধিলি: নোয়াখালী উপকূলে সহস্রাধিক ঘর বিধস্ত, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

ঘূর্ণিঝড় মিধিলির আঘাতে নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১১২৫টি কাঁচা বাড়ি-ঘর বিধস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২১২টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বিধস্ত এবং আংশিক বিধস্ত হয়েছে ৯১৩টি। শুক্রবার ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপকূলীয় হাতিয়া, সুবর্ণচর, কোম্পানীগঞ্জ, কবিরহাট ও সদর উপজেলার ৩৪টি ইউনিয়নের দ্বীপ ও চরাঞ্চলে এ ক্ষয়ক্ষতি হয়।

শনিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান ও জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদ হাসান খান।

অন্যদিকে, রোপা আমন, মৌসুমি সবজি, রবি শস্যের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৩৯ হাজার হেক্টরের। জেলার উপকূলীয় দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া, সুবর্ণচর, কোম্পানীগঞ্জ, কবিরহাট ও সদর উপজেলার ৩৪টি ইউনিয়নের দ্বীপ ও চরাঞ্চলে এ ক্ষয়ক্ষতি হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মুহাম্মদ শহীদুল ইসলাম জানান, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে জেলার ১ লাখ ৩৫ হাজার হেক্টর রোপা আমনের মধ্যে ২৪ হাজার পাঁচশ হেক্টর রোপা আমন আক্রান্ত হয়েছে, শীতকালীন সবজি আক্রান্ত হয়েছে ১২৩৭ হেক্টর, ২৪ হাজার ৯৬০ কেক্টর খেশারির মধ্যে ১৩ হাজার ৩৫ হেক্টর, আবাদকৃত ২৩২ হেক্টর সরিষার মধ্যে ১৩৯ হেক্টর ও ২ হেক্টর বোরো বীজতলা আক্রান্ত হয়েছে। তিনি জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি।

মিধিলির প্রভাবে বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত হালকা ও মাঝারি বৃষ্টি হয়। শুক্রবার দুপুরের দিকে ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করে। এতে চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে কাঁচা ঘর-বাড়ি বিধস্ত হয়। এ ছাড়া এক হাজারের বেশি গাছগাছালি ভেঙে পড়ে। দুই শতাধিক পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে যায়। অন্তত ১০ হাজার কিলোমিটার বিদ্যুতের লাইন এলাকার মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে।

পল্লী বিদ্যুৎ নোয়াখালী অঞ্চলের জিএম জাকির হোসেন জানান, ১৬ হাজার কিলোমিটারের বিদ্যুৎ লাইনের মধ্যে অন্তত ১০ হাজার কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইন এলাকার মানুষ বিদ্যুৎহীন ছিল। ইতিমধ্যে উপজেলা সদরে বিদ্যুৎ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, জেলায় ২২৮টি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছে। শনিবার সন্ধ্যার মধ্যে বিধস্ত এলাকায় বিদ্যুৎ পুরোপুরি দেওয়া হবে।

জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদ হাসান খান জানান, তাৎক্ষণিক জরিপ চালিয়ে আংশিক ও সম্পূর্ণ মিলিয়ে ১১২৫টি কাঁচা ঘর বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে কোনো হতাহতের খবর এখনও পাওয়া যায়নি। আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যে বিধ্বস্তদের পূর্ণ ঠিকানা সংগ্রহ শেষ করে তাদের সরকারি সহায়তার আওতায় নিয়ে আসা হবে।

জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহাবুবুর রহমান জানান, শনিবার সকাল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পরিদর্শন শুরু করেছে। তিনি জানান, ইতিমধ্যে বিভিন্ন ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের তথ্য মতে জেলায় ২১২টি কাঁচা ঘর সম্পূর্ণ ও ৯১৩টি আংশিক বিধস্ত হয়েছে। এসময় কোনো হতাহত বা নিখোঁজের ঘটনা ঘটেনি। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সরকারি ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হবে।