দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে জাপায় শুরু হয়েছে নতুন নাটক। তবে এবারই প্রথম নয়, নির্বাচন এলেই বিগত সময়ে নানা নাটকের জন্ম দিতেন দলটির প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তার মৃত্যুর পর থেকে নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রে চলে আসেন তার ছোট ভাই ও জাপার বর্তমান চেয়ারম্যান জি এম কাদের এবং এরশাদের স্ত্রী রওশন এরশাদ। যা এখন দেবর-ভাবির নাটক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
আজ শনিবার দুপুরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বরাবর এক চিঠি পাঠান জাপা মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। চিঠিতে তিনি জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রদানের ক্ষেত্রে দলের মনোনীত প্রার্থী নির্বাচনে জাতীয় পার্টির ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি হিসেবে দলের প্রার্থী মনোনয়ন ও প্রতীক বরাদ্দ করবেন- জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি।
তবে এই চিঠির কিছুক্ষণ পর রওশন এরশাদও সিইসি বরাবর পাল্টা চিঠি পাঠান। যেখানে রওশন এরশাদ জানান, বিগত ৩ নির্বাচনের মতো এবারও মহাজোটের শরীক দল হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে জাপা। নির্বাচনকালীন জাতীয় পার্টির নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা দলীয় সিদ্ধান্ত অনুসরণ করবেন।
চিঠিতে আরও বলা হয়, দলের মনোনীত প্রার্থীরা দলীয় প্রতীক ‘লাঙ্গল’ কিংবা প্রার্থীর ইচ্ছানুসারে মহাজোটে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করতে পারবেন।
এদিকে, শনিবার দুপুরের পর থেকে ফোন বন্ধ পাওয়া যায় জাপা মহাসচিবের। একাধিক বার চেষ্টা করেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব (বহিষ্কৃত) মশিউর রহমান রাঙ্গা, যিনি রওশন এরশাদের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। চিঠি পাঠানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, রওশন এরশাদ জাতীয় পার্টির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। তাই তিনি যে সিদ্ধান্ত নেবেন তাই চূড়ান্ত। এই মুহূর্তে আমরা এককভাবে নির্বাচন করলে খুব বেশি আসনে জিততে পারবো না। তাই আওয়ামী লীগের সাথে থেকে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করবো।
এতে কি জাতীয় পার্টির বিভক্তি আরও স্পষ্ট হলো? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা দেবর-ভাবি একসাথে বসলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। রওশন এরশাদ দলের জন্য যেটা ভালো সেই সিদ্ধান্ত নেবেন। অন্যদের উচিত তার প্রতি ভরসা রাখা।
জাতীয় পার্টির জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম বলেন, রওশন এরশাদ দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক। যা সম্মানিত পদ মাত্র। কেবল বাংলাদেশ নয় বিশ্বের কোথাও এরকম পদের নজির নেই। রওশন এরশাদ আমাদের শ্রদ্ধার মানুষ। কিন্ত জাপার সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার তার নেই। জাপা নির্বাচনে যাবে কী যাবে না কিংবা সামগ্রিক বিষয়ে কি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে- তার একক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের।