নির্বাচনের আগে পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রদূতরা অতিরিক্ত কথা বলছে: জয়

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ক উপদেষ্টা এবং সিআরআই চেয়ারম্যান সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, নির্বাচনের আগে পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রদূতরা অতিরিক্ত কথা বলছে।

তিনি বলেন, নির্বাচন এসেছে। এখন নতুন করে বিএনপি মানুষ পোড়াচ্ছে, বাস পোড়াচ্ছে। এসব নিয়ে কিন্তু তারা কিছু না বলে বরং উসকানি দিচ্ছে। তাদের বাঁচানোর জন্য দূতরা ব্যস্ত। কারণ, তারা বাংলাদেশে শান্তি চায় না। বিদেশি দূতরা যখনই আগুন সন্ত্রাসীদের পক্ষে কথা বলবে তখনই আপনারা প্রতিবাদ করবেন। আপনার এসব কথায় কান দিয়েন না।

শনিবার বিকেলে সাভারের শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউটে জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডের ‘লেটস টক উইথ সজীব ওয়াজেদ’ পর্বে তিনি এসব কথা।

সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, জামায়াতে ইসলামী যুদ্ধপরাধীদের দল। আগামী ১০-১৫ বছরে বিএনপি-জামায়াত বলে কোনো দল বাংলাদেশে থাকবে না। তাদের নাম মুছে যাবে। বিএনপি-জামায়াত সন্ত্রাসী ও জঙ্গি দলে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, বিএনপি কখনই গণতান্ত্রিক দল ছিল না। তারা মানুষ পোড়াচ্ছে, বাস পোড়াচ্ছে। তারা বাংলাদেশে শান্তি চায় না। উন্নত দেশে কোনো দল এমনটি করলে তাদের সন্ত্রাসী ও জঙ্গি হিসেবে চিহ্নিত করে রাজনীতিতে নিষিদ্ধ করা হতো।

বিএনপিকে স্বৈরাচার জিয়াউর রহমানের দল উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমানের আমলে ছোট-বড় ২১টি অভ্যুত্থান ঘটেছে। বিমানবাহিনীর সদস্যদের ব্যর্থ অভ্যুত্থানেই ফাঁসি ও ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এক হাজার ৩০০ জনের বেশি সেনাকে। বিএনপি কখনই গণতান্ত্রিক দল ছিল না। আর জিয়াউর রহমান খুনি ছিলেন।

আমরা নিজেদের সমস্যা নিজেরাই সমাধান করতে পারি উল্লেখ করে তরুণদের উদ্দেশ্যে সজিব ওয়াজেদ জয় বলেন, ‘আপনারা শুধু সমস্যা নিয়ে চিন্তা করেন না। সমস্যার সমাধানও বের করছেন এবং তা বাস্তবায়ন করছেন। বাংলাদেশের তরুণরাও নিজের পায়ে এখন দাঁড়াতে পারছে। তরুণরাই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আপনারাই দেশের ভবিষ্যৎ। এই ১৬ কোটি মানুষকে ১০-১৫ বছরে আমরা দরিদ্র দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে প্রতিষ্ঠিত করেছি। এই তরুণ তরুণীরা, পুরস্কার বিজয়ীরা হচ্ছে দেশের ভবিষ্যৎ। আমার বিশ্বাস আপনারাই বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করবেন। এ সময় তিনি আসন্ন নির্বাচনে তরুণদের নৌকা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

সজিব ওয়াজেদ জয় বলেন, আমি গর্ব বোধ করি, যখন প্রত্যেক বছর জয় বাংলা পুরস্কার দিই, তখন যে এতগুলো সংগঠন এগিয়ে আসে, আবেদন করে। প্রথম বছর ২০০ সংগঠনের মতো আবেদন করেছিল। প্রত্যেক বছর এটা বাড়ছে। এখন সাড়ে তিন লাখ আমাদের প্রতিনিধি আছে। যারা সারা দেশে মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। নিজের এত আনন্দ লাগছে যখন দেখি যে, আমাদের দেশে রোবটিক হাত বানানো হচ্ছে। এটা অসাধারণ। আমাদের দেশ থেকে প্রতিনিধি যাচ্ছে ক্লাইমেট চেঞ্জের জন্য, এটা অসাধারণ। আপনারা সবাই অসাধারণ কাজ করছেন। আমাদের দেশ একটি অসাধারণ দেশ। এই অল্প জায়গার মধ্যে মানুষকে আমরা স্বাধীন করেছি নিজের রক্ত দিয়ে। 

এর আগে দুর্নীতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াতের সময় সারা বিশ্বে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। বাংলাদেশে সেরকম দুর্নীতি থাকলে এত মেগা প্রকল্প করা সম্ভব হতো না। আওয়ামী লীগের আমলে যে পরিমাণ উন্নয়ন হয়েছে, বাংলাদেশের ইতিহাসে তা হয়নি। অল্প সময়ে এতো উন্নত হয়েছে বলেই তরুণরা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসে।

অনুষ্ঠানে সারা দেশের ৭৫০টিরও বেশি সংগঠনের মধ্য থেকে ৬ ক্যাটাগরিতে জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড-২০২৩ বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার তুলে দেন সিআরআই চেয়ারম্যান সজীব ওয়াজেদ জয়।