বাংলাদেশকে সমুদ্র নিরাপত্তায় চারটি প্রহরা জাহাজ দিতে যাচ্ছে জাপান। দেশটির সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। জাপানি সংবাদমাধ্যমটির দাবি, চীনের সামুদ্রিক প্রভাব ও প্রসার কৌশল মোকাবেলায় এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশকে সহায়তা করছে জাপান।
নিক্কেই প্রতিবেদনে বলা হয়, জাপানের অফিশিয়াল সিকিউরিটি অ্যাসিসট্যান্স (ওএসএ) কাঠামোর আওতায় ৩৯ লাখ ডলারের একটি তহবিল চালু করেছে। ইতিমধ্যে এই কাঠামোর আওতায় ফিলিপাইনে অত্যাধুনিক রাডার ব্যবস্থা স্থাপন করেছে জাপান। এবার কাঠামোর আওতাধীন তহবিলের দ্বিতীয় উদ্যোগ হিসেবে বাংলাদেশকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দিচ্ছে দেশটি।
চলতি অর্থবছরে সমমনা দেশগুলোর প্রতিরক্ষা সহায়তা বাবদ এই কাঠামো তৈরি করেছে জাপান । এই অর্থবছরে ওএসএ তহবিলের জন্য ২০০ কোটি ইয়েন বরাদ্দ রেখেছে জাপান সরকার। নিক্কেই বলছে, খুব শিগগিরই মালয়েশিয়া ও ফিজি এই তহবিল থেকে প্রতিরক্ষা সহায়তা পাবে।
নিক্কেই জানায়, বাংলাদেশেও জাপানকে নিজেদের প্রতিরক্ষা যোগানদাতা হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা প্রশ্নে দেশটি উন্নত প্রযুক্তির প্রতিরক্ষায় জোর দিচ্ছে। ইতিমধ্যে জাপান-বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম-প্রযুক্তি বিনিময় আরও জোরদার করতে চুক্তির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে।
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্যের বরাতে নিক্কেই জানায়, বাংলাদেশের সামরিক সরঞ্জামের ৭০ শতাংশের যোগান দেয় চীন। সংবাদমাধ্যমটির দাবি, চীনের সামরিক সরঞ্জামের মান নিয়ে প্রশ্ন থাকায় বাংলাদেশ নিজের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহকারীদের তালিকা পুনর্বিন্যাসে জোর দিচ্ছে।
এই প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সহায়তা বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের ভবিষ্যত নিরাপত্তা সহায়তা আরও মজবুত করবে বলে এই প্রতিবেদনে আশা প্রকাশ করা হয়। বলা হয়, জাপানের সেলফ-ডিফেন্স ফোর্স এখনো বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিকভাবে কোনো সামরিক অনুশীলন করেনি। এখন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম স্থানান্তরের মাধ্যমে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও গভীর করার সুযোগ তৈরি হলো।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব পদক্ষেপের পেছনে জাপানের নিজস্ব স্বার্থ কাজ করছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চীনের প্রভাব মোকাবেলায় পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম মোতায়েন করছে জাপান। এক্ষেত্রে বাংলাদেশকে উপযুক্ত মনে করে জাপান, বিশেষ করে জাপানের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম শিল্পের জন্য বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় বাজারও বটে।
নিক্কেই বলছে, বাস্তবতা হলো- ভারত মহাসাগরে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে চীন। তথাকথিত এই প্রকল্পের নাম ‘মুক্তোর মালা’। যার আওতায় ইতিমধ্যে বেইজিং শ্রীলঙ্কার কাছ থেকে ৯৯ বছরের জন্য হাম্বানটোটা বন্দর লিজ নিয়েছে। সেখানে মোতায়েন করেছে চীনের নজরদারি জাহাজ। অন্যদিকে মালদ্বীপেও বাড়ছে চীনা প্রভাব, দেশটিতে চীনপন্থী ড.মুইজ্জু সদ্যই প্রেসিডেন্ট পদে বসলেন।