বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অকপটে স্বীকার করেছেন, অস্ত্র হাতে এবং রাতের অন্ধকারে ভোট ডাকাতির মাধ্যমে তিনি ক্ষমতার সিংহাসন দখল করে রেখেছেন। কথায় বলে-ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। সত্যকে কখনো ধামাচাপা দেওয়া যায় না। সত্য কোনো না কোনোভাবে প্রকাশিত হয়ই।’
শনিবার (১৮ নভেম্বর) বিকেলে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রথম সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘অস্ত্র হাতে না, রাতের অন্ধকারে না। বাংলাদেশে সরকার গঠন হবে ভোটের মধ্য দিয়েই।’
রিজভী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর স্বীকারোক্তিমূলক এমন বক্তব্যের পর এই মুহূর্তে ভোটারদের কাছে ক্ষমা চেয়ে তার পদত্যাগ করা উচিত। তার আর ক্ষমতায় থাকার কোনো নৈতিক অধিকার নেই।’
সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, ‘ইতিপূর্বে নিশিরাতের সরকারের সঙ্গী রাশেদ খান মেনন, জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরীসহ বহু আওয়ামী লীগ নেতা সাক্ষ্য দিয়েছেন, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানুষ ভোটকেন্দ্রে যায়নি। রাতের অন্ধকারে নৌকায় সিল মেরে বাক্স ভরা হয়েছিল। ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে দেশের মানুষের'। ঢাকাস্থ জাপানের সাবেক রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকিসহ বিদেশীরাও বলেছেন, পৃথিবীতে একমাত্র বাংলাদেশেই রাতের ভোট হয়। এবার নিজের মুখে রাতে ভোট করার মহাসত্যটি স্বীকার করে নিলেন শেখ হাসিনা।’
তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা আবারও গায়ের জোরে তার উচ্ছিষ্টভোগী সঙ্গীদের নিয়ে একতরফা ভোটহীন আরও একটি পাতানো নির্বাচনের তামাশা করছেন। এবার চোর-ডাকাত দিয়ে ভিন্ন কোনো পন্থায় ভোটের নামে আরেকটি ভাঁওতাবাজীর প্রহসন করতে মরিয়া, বেপরোয়া ও ভয়ঙ্কর মারমুখী হয়ে উঠেছে আওয়ামী সরকার। ভোটারবিহীন নির্বাচন করার জন্য বিরোধীদলকে নিশ্চিহ্ন করতে পোড়ামাটি নীতি গ্রহণ করে ঘৃণ্য-দূষিত বাতাবরণ তৈরি করতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন কেমন হবে তা তো দেশবাসী জানে- বাঘ তার ডোরা কাটা দাগ ফেলে আসতে পারে না।'
রিজভী বলেন, ‘জনগণ রাজপথে নেমেছে অধিকার আদায়ের দুর্বার আন্দোলনে। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন না দিলে সরকারের পতন হবে। আপনারা যে তফসিল ঘোষণা করেছেন তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করুন। নির্বাচন স্থগিত করে আগে পদত্যাগ করুন। অন্যথায় এই ফরমায়েশি তফসিলে বাংলাদেশে এক তরফা কোনো নির্বাচন হবে না। জনগণ সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিহত করবে।’
‘পুলিশের এখন পৌষ মাস, আর জাতির সর্বনাশ’ : রিজভী বলেন, ‘বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীরা ঘরে থাকতে পারছেন না। ব্যবসা-বাণিজ্য নেই। এ অবস্থায় পুলিশ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের আটক করে কারো কাছ থেকে ১ লাখ, কারো কাছ থেকে ৫০ হাজার, ৩০ হাজার টাকা নিচ্ছে। টাকা দিতে না পারলে মিথ্যা মামলায় জেলখানায় নিক্ষেপ করা হচ্ছে। অনেককে আটকে রেখে মুক্তিপণ নিচ্ছে পুলিশ। নেতাকর্মীদের না পেয়ে তার আত্মীয়দের আটক করে মারধর করছে পুলিশ। তাদেরকে গ্রেপ্তার বাণিজ্যের লাইসেন্স দিয়েছে শেখ হাসিনা।’
‘নাশকতার ঘটনায় কারাবন্দি নেতারা স্বীকারোক্তি দেননি’ : সংবাদ সম্মেলনের আগে গণমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে রিজভী অভিযোগ করে বলেছেন, ‘নাশকতার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া বিএনপি’র শীর্ষ নেতাদের স্বীকারোক্তি নিয়ে ডিবি প্রধানের বক্তব্য সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা, বানোয়াট ও অশুভ উদ্দেশ্য প্রণোদিত। আমরা গ্রেপ্তারকৃত বিএনপি নেতৃবৃন্দের আইনজীবীদের কাছ থেকে জানতে পেরেছি যে, নেতৃবৃন্দ ডিবি কার্যালয়ে কোনো স্বীকারোক্তি দেননি। বরং ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশ পূর্বাপর নাশকতার যেসব ঘটনা ঘটেছে তার সবগুলোতেই সরকারদলীয় ক্যাডার ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাই জড়িত বলে বিভিন্ন ফুটেজে তা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। গণমাধ্যমে তা প্রকাশিত হয়েছে।’