হ্যাটট্রিক দিয়ে ১৮ মাস পর জাতীয় দলে নাঈম

জাতীয় দলে ১৮ মাস পর ডাক পাওয়াটা হ্যাটট্রিক দিয়ে উদযাপন করলেন নাঈম হাসান। হোমগ্রাউন্ড জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে জাতীয় লিগের ম্যাচ রাজশাহীর বিপক্ষে তিন বলে তিন উইকেট নিয়েছেন এই অফস্পিনার। 

পরিশ্রম ও ধৈর্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়াতেই জাতীয় দলে ফিরতে পারলেন বলে জানিয়েছেন নাঈম, 'আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ সুযোগ দিয়েছে আবার। চেষ্টা থাকবে সর্বোচ্চটা কাজে লাগানোর। দলের বাইরে ছিলাম এতদিন, এ সময়ে ধৈর্য ধরে অনুশীলন করেছি। সবসময় অনুশীলন চালিয়ে গিয়েছি বাংলা টাইগার্সের হয়ে। সে ধারাবাহিকতায় চলমান এনসিএলটাও ভালো কেটেছে।'

জাতীয় দল থেকে বাইরের এই সময়ে দেশি কোচদের সঙ্গেই বেশি কাজ করেছেন জানিয়েছেন নাঈম, 'দীর্ঘ এই সময় সোহেল স্যারের সঙ্গে কাজ করেছি। এছাড়া মোমিন ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করেছি, যখন চট্টগ্রামে থাকি। ব্যাটিং নিয়ে কাজ করেছি কোচ জেমি সিডন্সের সঙ্গে। বাবুল স্যারও সাহায্য করেছে। কাজ করেছি ট্রেনার ইফতি ভাইয়ের সঙ্গেও।'

জাতীয় দলের হয়ে এখন পর্যন্ত ৮টি টেস্ট খেলেছেন ডানহাতি এই অফ-স্পিনার। যেখানে তার শিকার ৩১টি। এর মধ্যে নাঈমের সেরা বোলিং ফিগার ১০৫ রানে ৬ উইকেট। ৫১ ম্যাচে ২১৬ উইকেট নিয়ে আজ থেকে জাতীয় লিগের ষষ্ঠ ও শেষ রাউন্ডের ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন নাঈম রাজশাহীর বিভাগে। ৪৭তম ওভারের শেষ বলে রাজশাহীর মোহর শেখকে এলবিড্বাব্লিউ করেন নাঈম। তার পরের ওভারের প্রথম বলে সাকলাইন সজীবকে বোল্ড করেন। আর শেষ ব্যাটসম্যান নাহিদকেও বোল্ড করে ক্যারিয়ারে প্রথম বার হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি ১৯তম হ্যাটট্রিক, এবারের জাতীয় লিগে দ্বিতীয়। এর আগে সিলেট বিভাগের পেসার রেজাউর রহমান ঢাকা মহানগরের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন।

নাঈমের হ্যাটট্রিকে রাজশাহীর ইনিংস থামে ১৮৯ রানে। সর্বোচ্চ ৭৩ রান এসেছে ওপেনার সাব্বির হোসেনের ব্যাট থেকে। রাজশাহীর হয়ে এ ম্যাচে খেলা বিশ্বকাপ–ফেরত তানজিদ হাসান (১০), নাজমুল হোসেন (৩১) ও মুশফিকুর রহিম (০) বিশেষ কিছু করতে পারেননি। চট্টগ্রামের হয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নিয়েছেন বাঁহাতি স্পিনার হাসান মুরাদ। নাঈমসহ ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন বিশ্বকাপ দলে থাকা পেসার হাসান মাহমুদ। তিনজনই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট স্কোয়াডে ডাক পেয়েছেন। 

বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে দিনের আরেক ম্যাচে সিলেট বিভাগকে ১২৫ রানে অলআউট করেছে রংপুর বিভাগ। রংপুরের আবদুর গাফফার ৩০ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন। ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে রংপুরও। নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেটে ১২৪ রানে প্রথম দিন শেষ করেছে রংপুর। সিলেটের পেসার আবু জায়েদ ৩ উইকেট নিয়েছেন।

খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে খুলনা বিভাগের বিপক্ষে বরিশাল বিভাগ তাদের প্রথম ইনিংসে ২৩৯ রান করেছে। টপ অর্ডার ব্যর্থতার পর কামরুল ইসলাম (৬১) ও তানভির ইসলামের (৬৪) অর্ধশত বরিশালকে লড়াই করার মতো রান পৌঁছে দেয়। খুলনার হয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নিয়েছেন বিশ্বকাপ খেলে আসা শেখ মেহেদী হাসান। শেষ বেলায় ব্যাটিংয়ে নেমে খুলনা কোনো উইকেট না হারিয়ে ১৬ রান করেছে।