মাটি ধসে স্ত্রী ও তিন সন্তান হারিয়ে পাগলপ্রায় ফকির মোহাম্মদ

‘আমার ঝুপড়ির ঘরই ভালো ছিল। আমি কেন নতুন ঘর বানাতে গেলাম। এ ঘরই আমার সব কেড়ে নিছে। ও আল্লাহ এখন আমি কাদের দিকে তাকিয়ে থাকব। তাদেরকে রেখে আমাকে নিলেই ভালো হতো।'

স্ত্রী ও তিন ছেলে-মেয়েকে এক সাথে হারিয়ে আজ শনিবার রাতে এসব কথাগুলো বলে কান্না করছিলেন ফকির মোহাম্মদ (৫৫)।

কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলে নির্বাক দৃষ্টিতে উপরের দিকে তাকিয়ে বিড় বিড় করছিলেন ফকির মোহাম্মদ। মাঝে মধ্যে জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ছেন তিনি।

এলাকাবাসীরা জানান, ফকির মোহাম্মদ পাঁচজন পরিবারে সদস্য নিয়ে অনেক বছর ধরে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করে আসছিল। নতুন ঘর তার জন্য কাল হয়েছে। এখন পুরো পরিবারের সবাই মারা গেছে। তিনিও বয়স্ক হয়ে পড়েছেন। সবকিছু হারিয়ে তিনি এখন নির্বাক।

হ্নীলার ইউপির চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী বলেন, ছেলে মেয়ে ও স্ত্রীকে হারিয়ে ফকির এখন পাগল প্রায়। নাওয়া খাওয়া ভুলে গেছে। গতকাল থেকে শুধু বিলাপ করেই চলছে। এলাকাবাসী তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছে। অনেকে খাবার নিয়ে গেছে কিন্তু ফকির এখনো কিছু খায়নি।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আদনান চৌধুরী বলেন, নিহতের দাফনের জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক লাখ টাকা ফকির মোহাম্মদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার ভোররাতে ঘরের মাটির দেওয়াল চাপ পড়ে মৌলভীবাজারের মরিচ্যাঘোনার পানিরছড়ার বাসিন্দা ফকির মোহাম্মদের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম, তার ছেলে শাহিদুল মোস্তফা, মেয়ে নিলুফা ইয়াসমিন ও সাদিয়া নিহত হন।