নওয়াজ সেনাবাহিনীর নতুন প্রিয়পাত্র!

পাকিস্তানের রাজনীতিতে সামরিক বাহিনীর প্রভাবের বিপরীতে নিজেকে সব সময় একজন বলিষ্ঠ নেতা হিসেবে জাহির করেছেন নওয়াজ শরিফ। পাকিস্তানের সাবেক সেনাশাসক পারভেজ মুশাররফ তাকে উৎখাত করেছিলেন। এতে তার সেই ভাবমূর্তি আরও শাণিত হয়। তার দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) সব সময় ‘জনতার শ্রেষ্ঠত্বকে’ ঊর্ধ্বে তুলে ধরার কথা বলেছেন। কিন্তু তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, মামলা থেকে নিষ্কৃতি এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তার দলের তৎপরতার মাধ্যমে গুঞ্জন তৈরি হচ্ছে, তিনি সম্ভবত এস্টাবলিশমেন্ট তথা সেনাবাহিনীর নতুন ‘প্রিয়পাত্র’।    

পাকিস্তানের রাজনীতিতে পিএমএল-এনের বাইরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এবং ভুট্টো পরিবারের দল পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) বড় জনভিত্তি রয়েছে। সম্প্রতি পিপিপি এবং পিটিআই পাঞ্জাব প্রদেশে জোট গড়েছে। অথচ পিপিপি নওয়াজ শরিফের ভাই শেহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন সরকারে কিছু দিন আগেও শরিক ছিল। নওয়াজকে সেনাবাহিনীর নতুন ‘সিলেক্টেড তথা নির্বাচিত’ ব্যক্তি আখ্যা দিয়ে কটাক্ষ করছেন শেহবাজ সরকারেরই পররাষ্ট্রমন্ত্রী পিপিপি নেতা বিলাওয়াল ভুট্টো-জারদারি।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, নওয়াজ শরিফকে পাকিস্তানের আদালত পলাতক ঘোষণা করেছিল। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করাই ছিল। অথচ গত অক্টোবরে বেশ রাজসিকভাবেই তিনি দেশে ফেরেন। কোনো মামলাই তার পথে বাধা হয়নি। এর মধ্যে তার ভাই শেহবাজ গতকাল একটি মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন। আবার নওয়াজ আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে এমন দলগুলোর সঙ্গে জোট বাধা কিংবা বোঝাপড়ার চেষ্টা করছেন যারা সেনাবাহিনীর ছত্রচ্ছায়ায় প্রতিষ্ঠালাভ করেছে। পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক দলটির একজন নেতা স্বীকার করেন, দলের এস্টাবলিশমেন্টবিরোধী অবস্থানের ভাবমূর্তিতে আঁচ লাগছে।

ওই নেতার ভাষ্য, দল জনতার শ্রেষ্ঠত্বকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করতে চাইছে যেখানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি সম্মান রাখার বার্তা দেওয়া হচ্ছে। ইমরান খানের দলের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীবিরোধী অবস্থানকে আরও পরিষ্কারভাবে উন্মোচন করতে পিমএএল-এন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি সম্মান দেখানোকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরছে।

পিএমএল-এন এক সময় অভিযোগ করত, ইমরান খান ক্ষমতায় এসেছেন সেনাবাহিনীর আশীর্বাদ মাথায় নিয়ে।