সুরক্ষা সচিব ও কারা মহাপরিদর্শককে তলব আপিল বিভাগের

কারা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি সংক্রান্ত বিষয়ে সর্বোচ্চ আদালতের রায় বাস্তবায়ন না করায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ চৌধুরী ও কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন্স) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ এস এম আনিসুল হককে তলব করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আগামী ৪ ডিসেম্বর দুজনকে হাজির হয়ে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে।

দুজনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ সোমবার (২০ নভেম্বর) প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগ এ আদেশ দেয়। ওই দিন আদালত অবমাননার আবেদনের ওপর শুনানি হবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।

আইনজীবীদের তথ্য অনুযায়ী, কারা অধিদপ্তরের ৬ জন কর্মকর্তা ২০০৮ সালে জেল সুপারের দায়িত্বে থাকাকালীন ১৯৮৪ সালের অফিসার্স অ্যান্ড স্টাফ (ডিপার্টমেন্ট অব প্রিজন্স) রিক্রুটমেন্ট বিধিমালার আলোকে পদোন্নতি পেতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আবেদন করলে তা নাকচ হয়। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করলে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে আপিল করলে তাদের পক্ষে রায় হয়। প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার পক্ষ প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালে আবেদন করলে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত বাতিল হয়ে যায়। এ রায়ের বিরুদ্ধে ৬ জন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করলে ২০১৯ সালের ১৫ এপ্রিল তা খারিজ হয়ে যায়। আপিল বিভাগের এ রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে আবেদন করলে ওই বছরের ২২ এপ্রিল রায় তাদের পক্ষে আসে।

তবে, সর্বোচ্চ আদালতের এ রায় বাস্তবায়ন না করায় স্বরাষ্ট্রের সুরক্ষা সচিব ও আইজি প্রিজন্সের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করা হয়। গত ৬ নভেম্বর ৬ জনের পদোন্নতির বিষয়ে দুই সপ্তাহের সময় নেয় কারা কতৃর্পক্ষ। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল কারা কতৃর্পক্ষ গত ১৬ নভেম্বর বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির সিদ্ধান্তের বিষয়ে আদালতকে অবহিত করে জানায়, এই ৬ জনকে ১৯৮৪ সালের ওই নিয়োগ বিধির আওতায় পদোন্নতি দেওয়ার সুযোগ নেই। এর পরিপ্রেক্ষিতে সুরক্ষা সচিব ও আইজি প্রিজন্সকে তলব করে আপিল বিভাগ। আদালতে বাদীপক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী ইব্রাবিহম খলিল। কারা অধিদপ্তরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সফিকুল ইসলাম। ব্যানিস্টার ইব্রাহিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সর্বোচ্চ আদালতের আদেশের পরেও পদোন্নতিন সুযোগ নেই বলে বিবাদীপক্ষের এমন বক্তব্যে ক্ষুন্ন হয়েছেন আপিল বিভাগ। দুজনকে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে তলব করা হয়েছে।’