রাঙ্গাবালীতে নিখোঁজ ২৫ জেলের পরিবারে চলছে শুধুই আহাজারি

চার দিন পেরিয়ে গেলেও বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে যাওয়া ২৫ জন নিখোঁজ জেলের এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি। ঘূর্ণিঝড় মিধিলির সময় তিন ট্রলারে মাছ শিকারে যান পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর ওই জেলেরা। নিখোঁজ জেলেদের বাড়িতে বাড়িতে এখন চলছে শুধুই আহাজারি। সময় যতই গড়াচ্ছে নিখোঁজদের পরিবারের মধ্যে বাড়ছে উৎকন্ঠা।

নিখোঁজ হওয়া জেলেদের মধ্যে আছেন উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের নয়াভাঙ্গুণি গ্রামের জহির মাঝি (৩৫)। তার তিন সন্তান, বৃদ্ধা মা ও স্ত্রীর কান্না থামছে না। একই গ্রামের নিখোঁজ হওয়া মৃত কবির মৃধার ছেলে তামিমের (১৯) মা শহর ভানু সন্তানের জন্য পাগলপ্রায়।

তাদের সন্ধানে প্রশাসনের পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিখোঁজ জেলেদের পরিবার ও স্বজনরা। 

জানা যায়, হাসান জোমাদ্দারের ট্রলারের মাঝিসহ আটজন জেলে, দিদার মৃধা ট্রলারে মাঝিসহ আটজন জেলে ও হিমু হাওলাদার ট্রলারে নয়জন স্টাফ ছিল।

ট্রলার মালিকরা বলছেন, গত বুধবার সকালে বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে উদ্দেশে ট্রলার ছেড়ে যায়। কিন্তু পরে ঘূর্ণিঝড় মিধিলির পর আর তাদের সাথে যোগাযোগ করা যায়নি। তারা কোথায় আছে, কীভাবে আছে, কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একোয়াকালাচার বিভাগের চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, আমাদের যে সকল জেলেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাগরে মাছ ধরতে যায় তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। প্রতিটি ট্রলারে অবশ্যই জিএসএম সুবিধাসহ অন্যান্য সুরক্ষা সরঞ্জাম থাকা দরকার। যাতে করে জেলেদের অবস্থান সম্পর্কে আমরা জানতে পারি এবং তারা বিপদে পড়লে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে পারে।

তিনি আরও বলেন, উপকূল থেকে যেসকল ট্রলার মাছ ধরার জন্য ছেড়ে যায় সেগুলোতে যথেষ্ট পরিমান লাইফ জ্যাকেট আছে কিনা সেটা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কারণ আমরা যদি এই জেলেদের নিরাপত্তা দিতে না পারি। তাহলে অনেকেই এই পেশা থেকে সরে আসবে ও আমাদের দেশ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলাম মজুমদার জানান, নিখোঁজ হওয়া জেলেদের উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।