দেশে পেট্রোলিয়াম পণ্যের আমদানি, মজুদ, সরবরাহ তথা জ্বালানি তেলের সবকিছুর নিয়ন্ত্রক রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এই প্রতিষ্ঠানটি জ্বালানি তেল আমদানি করে এখন বিপুল লোকসানে রয়েছে। তবে মূল কোম্পানি লোকসানে থাকলেও তেল পরিবহন করে সাবসিডিয়ারি বা অঙ্গ প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফায় উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। ২০২২-২৩ হিসাব বছরে সাবসিডিয়ারি কোম্পানিগুলোর নিট মুনাফায় ৮৩ শতাংশ পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি হয়েছে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিপিসির সাবসিডিয়ারি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
পর্যালোচনায় দেখা গেছে, টানা সাত বছর মুনাফায় থাকার পর ২০২১-২২ হিসাব বছর থেকে ফের লোকসানে ফিরে আসে বিপিসি। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে থাকায় ক্ষতির মুখে পড়ে সংস্থাটি। ২০২২ সালের আগস্টে সরকার সব ধরনের জ্বালানি তেলের মূল্য ৪২ থেকে প্রায় ৫২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পরও বিপিসি লোকসানে রয়েছে। ২০২২-২৩ হিসাববছরের ১০ মাসে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসান ৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি ছিল। ওই হিসাব বছর শেষে লোকসানের পরিমাণ আরও বাড়বে বলে জানান বিপিসির কর্মকর্তারা। এর আগে ২০১৪-১৫ থেকে ২০২০-২১ হিসাব বছর পর্যন্ত টানা সাত বছর জ্বালানি তেল বিক্রি করে বিপুল মুনাফা করে বিপিসি।
এদিকে বিপিসি ব্যাপক লোকসানে থাকলেও সংস্থাটির তিন সাবসিডিয়ারির মুনাফা প্রতিবছরই বাড়ছে। বিপিসির তেল পরিবহন করে ২০২২-২৩ হিসাব বছরের বিপিসির সাবসিডিয়ারি যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড ৩৪০ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৮৩ শতাংশ বেশি। ২০২১-২২ হিসাব বছরে কোম্পানিটির নিট মুনাফা ছিল ১৮৬ কোটি টাকা। চলতি ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে মুনাফা আরও বেড়েছে। চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) নিট মুনাফা হয়েছে ৮৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ২৭ শতাংশ বেশি।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিপিসির সাবসিডিয়ারিগুলোর মধ্যে টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি মুনাফা করেছে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড। ২০২২-২৩ হিসাব বছরে এ কোম্পানিটি ৪৪২ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩৯ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। ২০২১-২২ হিসাব বছরে মেঘনা পেট্রোলিয়াম ৩১৬ কোটি টাকা মুনাফা করেছিল। ২০২২-২৩ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের ১৬০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের ঘোষণা দিয়েছে। বিপিসির আরেক সাবসিডিয়ারি পদ্মা অয়েল কোম্পানিও ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধিতে রয়েছে। তবে সর্বশেষ হিসাব বছরের প্রবৃদ্ধি বিগত বছরগুলোকে ছাড়িয়ে গেছে। ২০২১-২২ হিসাব বছরে কোম্পানিটির নিট মুনাফায় প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ শতাংশ। সেখানে ২০২২-২৩ হিসাব বছরে নিট মুনাফায় প্রবৃদ্ধি ৪৫ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। এ সময় নিট মুনাফা হয়েছে ৩৪৯ কোটি টাকা, যা আগের বছরে ছিল ২৩২ কোটি টাকা। চলতি ২০২৩-২৪ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকেও মুনাফায় ২৮ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে।