লেবানন এখন আর অচেনা প্রতিপক্ষ নয়। এক যুগ আগে প্রথম দেখায় বিধ্বস্ত হতে হলেও, ঘরের মাঠে ফিরতি দেখায় হারিয়ে দেওয়ার সুখস্মৃতি আছে। আবার চলতি বছর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপেও দেখা হয়েছে দুই দলের। তাই অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৭-০তে নাস্তানাবুদ হওয়ার পরও ঘরের মাঠ বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় আজ র্যাঙ্কিংয়ে ৭৯ ধাপ এগিয়ে থাকা লেবাননকে হারানোর স্বপ্ন বাংলাদেশের।
দুই দলের দেখা হয়েছে চলতি বছর ২২ জুলাই। লেবানন ২-০ গোলে জিতলেও লড়াইটা হয়েছে সেয়ানে সেয়ানে। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে অতিথি দল হিসেবে খেলা লেবানিজরা গ্রুপের প্রথম ম্যাচেই বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল। তবে শেষ দিকে ২ গোল করে মুখরক্ষা হয়।
সাফে খেলা লেবানন দলের সঙ্গে এই দলের ফারাক অনেক। সেই দলটি ছিল তারুণ্যনির্ভর। এটা অভিজ্ঞতাসম্পন্ন দল। বিশ^কাপ বাছাইয়ের আগে দলটির দায়িত্ব নেন ক্রোয়াট কোচ নিকোলা জুরসেভিচ। তার অধীনে লেবানন ৩ ম্যাচ খেলে এখনো জয়ের মুখ দেখেনি ঠিক, তবে জোর লড়াই করে হেরেছে মন্টেনিগ্রো ও আমিরাতের সঙ্গে। আর বিশ^কাপ বাছাইয়ের শুরুর ম্যাচে গোলশূন্য ড্র করেছে ফিলিস্তিনের সঙ্গে। আজ তাই ৫৭ বছর বয়সী কোচের লেবাননের হয়ে জয়ের খাতা খোলার দিন। র্যাঙ্কিংয়ে ১০০ কাছাকাছি (১০৪তম) থাকা একটি দল যখন ১৮৩তম দলের সঙ্গে খেলে, তখন জয় ছাড়া অন্য কোনো চিন্তা করাই যে অপরাধ। সেই অপরাধটা করতে চাননি ক্রোয়াট কোচ। তবে স্বাগতিক বলেই বাংলাদেশকে যথেষ্ট সমীহ করেই মাঠে নামার কথা বলেছেন। ‘বাংলাদেশ হোম কন্ডিশনে খেলবে। উন্নতমানের স্প্যানিশ কোচের অধীনে তারা ভালো ফুটবল খেলছে। আমরা একটা কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ আশা করছি। স্বাগতিক দল অনেক বেশি উজ্জীবিত থাকবে, ম্যাচটা তাই কঠিন হবে বলেই মনে হয়। অন-পেপার এই ম্যাচে লেবানন ফেভারিট। তবে কাগুজে সেরা ভেবে বসে থাকলে চলবে না। ছেলেদের বলেছি, মাঠে তোমাদের সামর্থ্য দেখাতে হবে। অনেক সময় কাগুজে সেরারা ম্যাচ জেতে না। তাই জয়ের জন্য আমরা সব ধরনের চেষ্টাই করব।’
বাংলাদেশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরা জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার হারটাকে ভুলিয়ে দলকে তিনি এই ম্যাচের জন্য প্রস্তুত করেছেন, সেই হারের ইতিবাচক প্রভাব থাকবে আজকের খেলায়, ‘অস্ট্রেলিয়ায় কী হয়েছে ভুলে আমরা কাল (আজ) ম্যাচটি খেলতে মুখিয়ে আছি। সাফে ওদের বিপক্ষে খেলার আগে ছেলেরা একটু ভীত ছিল। তবে ওরাই প্রমাণ করেছে যে এই পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সামর্থ্য আমাদের আছে। আমরা ৩ পয়েন্টের লক্ষ্য নিয়েই ঝাঁপাব।’
জামালও জয় চান, ‘জাতীয় দলের জার্সিতে প্রতিটি ম্যাচ খেলাই চাপের। তবে আমরা প্রস্তুত আছি লেবাননের ম্যাচের জন্য। কারণ অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের আগেই কোচ আমাদের লেবানন ও ফিলিস্তিন ম্যাচ থেকে পয়েন্ট পাওয়ার লক্ষ্যের কথা বলেছেন। আমরা যদি লেবাননকে হারাতে পারি, তবে পয়েন্ট টেবিলের দুইয়ে অবস্থান করব। তখন আগামী পাঁচ মাস আর কেউ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হারের কথা বলবে না।’
হোম ভেন্যু বানানোর পর কিংস অ্যারেনায় এখনো হারের মুখ দেখেনি বাংলাদেশ। লেবাননের বিপক্ষে নিশ্চয় পয়া ভেন্যুতে হারের তেতো স্বাদ পেতে চাইবে না বাংলাদেশ। সেই বিশ্বাসটা তৈরি হয়েছে এই ম্যাচ নিয়েও আগ্রহীর সংখ্যা বেশ। মাঠে আজ লাল-সবুজের জন্য গলা ফাটাতে থাকবেন হাজার হাজার সমর্থক।