মুহাম্মাদ (সা.) ও গাজায় শিশু হত্যা নিয়ে ওবামা-সহযোগীর কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য

হোয়াইট হাউসের সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সহযোগী স্টুয়ার্ট সেলডোভিৎজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বুধবার (২২ নভেম্বর) ইসলামবিদ্ধেষী ও ঘৃণা সূচক মন্তব্যের অপরাধে তাকে আটক করেছে পুলিশ। 

এই ঘটনার আগে সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। তাতে দেখা যায়, স্টুয়ার্ট নিউ ইয়র্কের রাস্তায় হালাল খাবারের ভ্রাম্যমান একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে দোকানিকে উত্যক্ত করছেন। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, এসময় স্টুয়ার্ট বলেন, 'গাজায় যদি আমরা ৪ হাজার শিশুকে হত্যা করে থাকি, তাও যথেষ্ট নয়।’ এরপর তাকে ইসলাম ধর্মের নবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর চরিত্র নিয়ে ভয়ঙ্কর কটূক্তি করতে শোনা যায়। দোকানী তাকে জানান, সে ইংরেজি অতো ভাল জানে না এবং স্টুয়ার্টকে সেখান থেকে চলে যেতে অনুরোধ করেন।   

কিন্তু স্টুয়ার্ট এবার দোকানদেরকেই ভয় দেখাতে শুরু করেন। মিসরীয় ওই দোকানিকে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে স্টুয়ার্ট নিজের নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে তাকে নির্যাতনের ভয় দেখান। ওবামার এই সহযোগী ওই দোকানিকে বলেন,’মুখবারাত (মিসরীয় গোয়েন্দা সংস্থা) চেনো? ওরা দেশে তোমার বাবা-মাকে ধরে নিয়ে যাবে। তোমার বাবারতো হাতের নখের মায়া আছে তাই না? মুখবারাত সেসব একটি একটি করে তুলে নেবে।’

ভিডিওতে শোনা যায় ওই দোকানী বার বার স্টুয়ার্টকে সেখান থেকে চলে যাবার অনুরোধ করছিলেন। কিন্তু এর জবাবে স্টুয়ার্টকে বলতে শোনা যায়, ‘আর তোমাকে দেশে ফেরত পাঠানোর পর ওরা (মুখবারাত) ইংরেজিতে জিজ্ঞাসাবাদ করবে, এজন্য তোমাকে ইংরেজি জানতে হবে।’

এই ভিডিও সামাজিক মাধ্যম ছড়িয়ে পড়ার পর ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সচেতন মার্কিনীসহ গোটা বিশ্বের নানা ধর্মের মানুষ। এ বিষয়ে খাবারের গাড়ির মালিক ও মোহাম্মদ হোসেনের নিয়োগকর্তা ইসলাম মোস্তফা সংবাদমাধ্যমকে বলেন,`আমরা তার (স্টুয়ার্ট) বিরুদ্ধে হয়রানি এবং ঘৃণামূলক বক্তব্যের জন্য মামলা করতে চাই,`। তিনি বলেন, `স্টুয়ার্টের এমন মন্তব্যকে আমি ঘৃণা ও বিদ্ধেষমূলক বক্তব্য হিসেবে মনে করি, বাক স্বাধীনতা হিসেবে নয়।`

আপাতত, নিউইয়র্ক পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে স্টুয়ার্টকে। তার বিরুদ্ধে ভয়ানক হয়রানি, ঘৃণামূলক অপরাধ, ভয়ভীতি দেখানো এবং কর্মসংস্থানে হয়রানির অভিযোগ আনা হয়েছে।