দশ বছর পর মুক্তি পাচ্ছেন ‘ব্লেইড রানার’ খ্যাত পিস্টোরিয়াস

দক্ষিণ আফ্রিকার দৌড়বিদ অস্কার পিস্টোরিয়াস। দুই পা নেই, কৃত্রিম পা নিয়েই চলাফেরা। সেগুলোও দেখতে ব্লেডের মতো। আর তাই বিশ্বের বুকে দক্ষিণ আফ্রিকার এই অ্যাথলেট ‘ব্লেইড রানার’ হিসেবে পরিচিত। এই পা নিয়েই তিনি দৌড়ে গড়েছেন বিশ্বরেকর্ড। তবে ২০১৩ সালে তার জীবনে নেমে এসেছিল অন্ধকার। বান্ধবী রিভা স্টিনক্যাম্পকে খুনের অভিযোগে ১৩ বছরের কারাদণ্ড হওয়ার পর গত ১০ বছর জেলবন্দি তিনি। অবশেষে আগামী বছরের ৫ জানুয়ারি প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন।

২০১৩ সালের ভ্যালেন্টাইন্স ডেতে বান্ধবীকে নিজের বাড়িতেই গুলি চালিয়ে খুন করেছিলেন ‘ব্লেড রানার’ নামে পরিচিত পিস্টোরিয়াস। পরে তিনি দাবি করেছিলেন, যার উদ্দেশে গুলি চালিয়েছিলেন তিনি যে নিজের বান্ধবী বুঝতে পারেননি। কোনো চোর ভেবে সেদিকে গুলি চালিয়েছিলেন। কিন্তু আদালতে তার যুক্তি খাটেনি। ২০১৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার একটি আদালত তাকে ১৩ বছরের কারাবাসের নির্দেশ দেয়।

দক্ষিণ আফ্রিকার ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশনার সার্ভিসেসের এক মুখপাত্র এএফপিকে পিস্টোরিয়াসের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বান্ধবী রিভার মা পিস্টোরিয়াসের জামিনের বিরোধিতা করেননি। কিন্তু প্যারোল বোর্ডকে পাঠানো একটি চিঠিতে তিনি জানতে চেয়েছেন, জেলে থাকাকালীন পিস্টোরিয়াসের রাগ সংক্রান্ত সমস্যার কোনো চিকিৎসা হয়েছে কি না। এটাও জানিয়েছেন, জেলের বাইরে বেরোলে অনেক মহিলার নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক হয়ে উঠবেন পিস্টোরিয়াস। আদালত সব কিছু খতিয়ে দেখেই প্যারোলের আবেদনে রাজি হয়েছে।

রিভার মা জুন স্টিনক্যাম্প শুক্রবার শুনানিতে হাজির ছিলেন না। তার স্বামী ব্যারি এ বছরের শুরুতে মারা যান। সন্তান এবং স্বামী দু’জনকে হারানোর মানসিক চাপ সামলাতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন রিভার মা।

এক বিবৃতিতে তিনি লিখেছেন, ‘এই মুহূর্তে ওর (পিস্টোরিয়াস) সামনে গিয়ে দাঁড়ানোর মতো মানসিক শক্তি আমার নেই। আমার প্রিয় মানুষ ব্যারি এই খবর জানতে পারলে ভেঙে পড়ত। নিজের মেয়েকে রক্ষা করতে না পারার যন্ত্রণা ওকে কুরে কুরে খেয়েছে। পিস্টোরিয়াসের কড়া শাস্তিই ওর স্বপ্ন ছিল। অস্কারকে এক দিন সত্যিটা বলতেই হবে।’

এ বছর এই নিয়ে দুবার প্যারোলের আবেদন করেছিলেন পিস্টোরিয়াস। প্রথমটি ছিল মার্চ মাসে। সেটি আটকে যায়। কারণ জেলবন্দি থাকার ন্যুনতম সময় পূরণ করেননি তিনি। পরে দক্ষিণ আফ্রিকার একটি আদালত মেনে নেয়, সেই সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। পরে পিস্টোরিয়াসকে আবার আবেদনের সুযোগ করে দেওয়া হয়। সেই আবেদন করেই জেল থেকে ছাড়া পাচ্ছেন তিনি।