জাবিতে প্রজাপতির রঙে ডানা মেলার দিন

‘এখানে অনেক রঙের প্রজাপতি দেখেছি। পাপেট শো দেখে খুব মজা পেয়েছি। একটি প্রজাপতির ছবি আঁকা বইও কিনেছি।’ সাভারের আশুলিয়া থেকে বাবা-মায়ের সঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রজাপতি মেলায় ঘুরতে এসে এভাবেই বলছিল প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া শিশুশিক্ষার্থী ফারজানা ফারুকি।

গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে বসে জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ে ১৩তম ‘প্রজাপতি মেলা’। সকাল সাড়ে ৯টায় উদ্বোধনের মাধ্যমে মেলার কার্যক্রম শুরু হয়। প্রজাপতি সংরক্ষণে গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশ^বিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের কীটতত্ত্ব শাখা প্রতি বছর প্রজাপতি মেলার আয়োজন করে আসছে।

সাত বছর বয়সী ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর গাবতলী থেকে ঘুরতে এসেছিলেন রাজিব আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আমি এর আগেও একবার জাহাঙ্গীরনগরে প্রজাপতি মেলা দেখতে এসেছিলাম। সেবার একা এসেছিলাম। এবার ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে এসেছি। খুব ভালো লাগছে।’

গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও দেশের নানা প্রান্তের দর্শনার্থীদের পদচারণে জমজমাট হয়ে ওঠে জহির রায়হান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত মেলা প্রাঙ্গণ। প্রজাপতি মেলাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় উৎসবমুখর। এবারের মেলা প্রাঙ্গণে পাঁচ শতাধিক মানুষের সমাগম ছিল।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনে প্রবেশপথে ঢুকতেই রাস্তার একপাশে সারি সারি দোকান। একপাশে ঘুরতে আসা শিশুদের জটলা। তার পাশে একটি বইয়ের দোকান। সেখানে প্রজাপতির ছবি আঁকা বাহারি বই ঘিরে রয়েছে শিশুরা। বইয়ের দোকানের পাশেই খেলনার দোকান। প্লাস্টিক, রাবার ও কাগজের তৈরি প্রজাপতি দিয়ে সাজানো দোকানটিতে শিশুরাই প্রধান ক্রেতা। খেলনার দোকানের পরেই আরেকটি বইয়ের দোকান। প্রজাপতিবিষয়ক ছোটগল্পের অনেক বই সাজিয়ে রাখা। তার ঠিক পাশের আরেকটি বইয়ের দোকানে অনেকের সমাগম। দোকানটিতে প্রকৃতি নিয়ে লেখা অনেক বই সাজিয়ে রেখেছেন দোকানি। বইপ্রেমীরা সেগুলো উল্টে-পাল্টে দেখছে। নিজেদের পছন্দমতো বই কিনছে।

এ ছাড়া রাস্তের আরেক পাশে দেখা গেল কর্কশিট দিয়ে তৈরি ছোট-বড় নানান রকমের প্রতীকী প্রজাপতি। প্রতীকীগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন ভঙ্গিতে ছবি তুলছে দর্শনার্থীরা। বাহারি রঙের পোশাক পরে আসা দর্শনার্থীরা কেউ কেউ নিজের মোবাইল ফোনে ছবি তুলছে বা ভিডিও ধারণ করছে। আবার কেউ কেউ ক্যামেরা দিয়ে সুন্দর মুহূর্তগুলো ফ্রেমবন্দি করছে।

সকাল ১০টায় মেলা প্রাঙ্গণে প্রজাপতির গল্পে পাপেট শো ও প্রজাপতির অরিগ্যামি প্যারেড প্রদর্শিত হয়। শিশুসহ সব বয়সী দর্শনার্থীরা হুমড়ি খেয়ে পড়ে দেখার জন্য। এরপর পৌনে ১০টায় শুরু হয় শিশু-কিশোরদের প্রজাপতিবিষয়ক ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা। নার্সারি থেকে ৭ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। জহির রায়হান মিলনায়তনের ভেতরে গিয়ে দেখা যায় সারিবদ্ধভাবে বসে শিশু-কিশোররা ছবি আঁকছে। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ক্লাস নার্সারি পড়ুয়া ইনান আহমেদ বলে, ‘মা-বাবার সঙ্গে মেলা দেখতে এসেছি। আমি প্রতিযোগিতায় ছবি এঁকেছি। খুব সুন্দর হয়েছে। খুব ভালো লাগছে।’

বেলা ১১টায় শুরু হয় প্রজাপতিবিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা। সেখানে অংশগ্রহণ করে নিবন্ধন করা শিশু-কিশোররা। এরপর চলে প্রজাপতির আলোকচিত্র প্রদর্শনী, প্রজাপতিবিষয়ক আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা এবং প্রজাপতির হাট দর্শন। দিনব্যাপী এই কর্মসূচি আনন্দের সঙ্গে উপভোগ করে দর্শনার্থীরা।

বেলা সাড়ে ১১টায় শুরু হয় প্রজাপতির আদলে ঘুড়ি ওড়ানো প্রতিযোগিতা। এ সময় বিভিন্ন রঙেও প্রজাপতির মতো ঘুড়ি ওড়াতে দেখা যায় শিশু-কিশোরসহ অন্য প্রতিযোগীদের। এরপর বেলা ২টায় শুরু হয় বারোয়ারি বিতর্ক প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল, ‘উড়লে আকাশে প্রজাপতি, প্রকৃতি পায় নতুন গতি’। আড়াইটায় হয় প্রজাপতি চেনা প্রতিযোগিতা। এরপর বিকেল ৩টায় প্রজাপতিবিষয়ক ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। এরপর সাড়ে ৩টায় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ী প্রতিযোগীদের পুরস্কৃত করার মাধ্যমে মেলার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।