একজনও পাস করেননি ৪২ প্রতিষ্ঠানে

এ বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ৪২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজনও পাস করেননি। যদিও গত বছর শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৫০টি। ফলে এবার গত বছরের তুলনায় শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে ৮টি। আর এ বছর শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯৫৩টি, গত বছর তা ছিল ১ হাজার ৩৩০টি। গত বছরের তুলনায় এ বছর শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে ৩৭৭টি।

গতকাল রবিবার ২০২৩ সালের এইচএসসি ও সমমানের ফলাফল প্রকাশ হয়। এ বছর ৯ হাজার ১৮৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। তারা ২ হাজার ৬৫৭টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে বিদেশেও আটটি কেন্দ্র ছিল। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৪ হাজার ৬৬৫টি, মাদ্রাসা বোর্ডের ২ হাজার ৬৮৮টি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ হাজার ৮৩৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ১৩ লাখ ৫৭ হাজার ৯১৫ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হন ১০ লাখ ৬৭ হাজার ৮৫২ জন। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডসহ ১১ বোর্ডে পাসের হার ৭৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৯২ হাজার ৫৯৫ জন।

জানা যায়, এ বছর শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৬টি দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে। এ ছাড়া ঢাকা বোর্ডে ৫টি, রাজশাহী বোর্ডে ৪, কুমিল্লা বোর্ডে ১, যশোর বোর্ডে ৭, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৩, ময়মনসিংহ বোর্ডে ৪ ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ২টি প্রতিষ্ঠান থেকে একজনও পাস করেনি। তবে বরিশাল, সিলেট ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে একটিও শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠান নেই।

আর শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মাদ্রাসা বোর্ডে। তাদের ৬৬১টি মাদ্রাসা থেকে শিক্ষার্থীরা শতভাগ পাস করেছেন। এ ছাড়া ঢাকা বোর্ডে ৪৬, রাজশাহী বোর্ডে ৩৭, কুমিল্লা বোর্ডে ১৭, যশোর বোর্ডে ১০, চট্টগ্রাম বোর্ডে ১২, বরিশাল বোর্ডে ১৩, সিলেট বোর্ডে ২, দিনাজপুর বোর্ডে ১৩, ময়মনসিংহ বোর্ডে ২ ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ১৪০টি প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা শতভাগ পাস করেছেন।

শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানরা জানিয়েছেন, ‘শূন্য পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে প্রতিবছরই ফলাফলের সময় আমাদের বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। অথচ এসব প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগই নন এমপিও। তাদের অবকাঠামো, শিক্ষকসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নেই। এমনকি তাদের প্রতিষ্ঠানে দুজন থেকে আট-দশজন পর্যন্ত শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। এখন যেখানে দুজন অংশ নেন, সেখানে যদি দুজন উত্তীর্ণ না হন, তাহলে সেটা শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পড়ে যায়। আর এভাবে শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে যায়।’