আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ’ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনিছুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘এই নির্বাচনেও সেনা মোতায়েনের প্রক্রিয়া চলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাড়ে সাত লাখ সদস্যকে মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে তারা কবে মাঠে নামবে, তা এখনো ঠিক হয়নি। ইসি আলোচনা করে ঠিক করলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে পরিপত্র জারি করবে।’ গতকাল রবিবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে ইসি আনিছুর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ইসি আনিছুর বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচনে ছোট-বড় হোক বিভিন্ন দল নির্বাচনে অংশগ্রহণের আগ্রহ ব্যক্ত করেছে। মনে হচ্ছে এবারের নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। এ নির্বাচন শুধু আমাদের চোখ দিয়ে দেখছি না। বিশ্ববাসীও দেখছে।
এটি গ্রহণযোগ্য না করার কোনো বিকল্প নেই, যেকোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য করতেই হবে।’ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো। তাদের দাবি অনুযায়ী নির্বাচন না হলে হরতাল-অবরোধের পুরনো কর্মসূচির পাশাপাশি ‘নির্বাচন প্রতিহতের’ ঘোষণাও দিয়েছেন দলগুলোর নেতারা। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ইসি আনিছুর সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত ৪৪টি রাজনৈতিক দল আছে। তাদের নির্বাচন করা না করার এখতিয়ার আছে। কিন্তু নির্বাচন বানচাল করা, কাউকে আসতে বাধা দেওয়া, সে অধিকার কিন্তু কাউকে আইনে দেওয়া হয়নি।
এ রকম কেউ করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ভোটারদের আনা কিংবা উপস্থিত করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর না। এটা যারা নির্বাচন করবেন সেই প্রার্থী, নেতাকর্মী ও সমর্থকদের করতে হবে। ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া আছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে।’ বিএনপি ও সমমনা দলগুলো নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে তফসিল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে ইসি আনিছুর বলেন, ‘যদি কোনো দল নির্বাচনের সময় নিয়ে কোনো কথা বলে, তাহলে সেটা বিবেচনা করা হবে, বিবেচনা করার মতো এখনো সময় আছে।’ চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. তোফায়েল ইসলাম, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়, চট্টগ্রামের রেঞ্জ ডিআইজি নূরে আলম মিনা, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাশার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান, চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার এসএম শফিউল্লাহ ও নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন।