এবারের নির্বাচন হবে নৌকা ভার্সেস আওয়ামী লীগ: রিজভী

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘এবারের নির্বাচন হবে নৌকা ভার্সেস আওয়ামী লীগ। তার মানে নিজেরা নিজেরাই। ব্যাপারটা দাঁড়িয়েছে যেন এ রকম: আমি, আমরা আর মামুরা। নির্বাচন হবে আমি আর মামুদের মধ্যে! পাতানো ম্যাচ খেলবো দুজন- তুমি আর আমি। সাইড লাইনে থাকবে টাকার বিনিময়ে খরিদ করা ‘কুইন্স পার্টি’, ‘ভূঁইফোড় পার্টি’র নেতারা।’

আজ সোমবার (২৭ নভেম্বর) বিকেলে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘জনগণের চাওয়া-পাওয়া উপেক্ষা করে শেখ হাসিনা আবারও ২০১৪ কিংবা ২০১৮ সালের মতো আওয়ামী লীগ এবং ফ্যাসিবাদের দোসর খুদ-কুটে খাওয়া কতিপয় সুবিধাবাদী রাজনীতিককে নির্বাচনে দাঁড় করাতে বর্তমান ফ্যাসিস্টদের আস্তানা গণভবনে এমপি পদ বন্টনের হাট বসিয়েছে। মাফিয়া চক্রের রাবারস্ট্যাম্প কাজী আউয়াল বাহিনী নির্বাচনী নাটকের নামে রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে শেখ হাসিনার তৈরি করা এমপি তালিকায় বৈধতার সিলমোহর দেয়ার অপতৎপরতায় লিপ্ত।’

‘বিদেশি শক্তির থাবা পড়েছে বাংলাদেশে। তাদের থাবা থেকে দেশের অর্থনীতি ও পোশাক শিল্পকে বাঁচাতে হলে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হবে। গ্রহণযোগ্য ভোট করতে না পারলে বিপদ’- প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের এমন বক্তব্যের জবাবে রিজভী বলেন, ‘টর্নেডোর গতিতে ধেয়ে আসা মহাবিপদে সিংহাসন পতনের আতঙ্কে ভূয়া নির্বাচনের নতুন নাটক উদ্ভাবন করেছে। দেশী-বিদেশীদের আইওয়াস করতে নিজেরা নিজেরা লোক দেখানো প্রতিযোগিতার জন্য তৈরি করা হচ্ছে একটি নীলনকশার নির্বাচনী প্রক্রিয়া। যেমন খুশি তেমন প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর শেখ হাসিনা গণভবনে মনোনয়ন বঞ্চিতদের সমাবেশে, দলীয় প্রার্থীদেরকে একজন করে ডামি প্রার্থী রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার প্রতিটি ভোট ডাকাতির অসাধারণ অভিনব মডেলগুলো দেখে অবাক তাকিয়ে আছে বিশ্ববাসী। আসন্ন নির্বাচনের শেখ হাসিনার ফর্মূলাকে সরকার পরিবর্তনের ভোট না বলে দলীয় কাউন্সিল বলা যেতে পারে। শেখ হাসিনা সারা পৃথিবীর মানুষকে বোকা বানাতে চান। তবে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ আর আন্তর্জাতিক মহলকে এই হাস্যকর সাজানো নাটক দিয়ে নয়ছয় বুঝানো সম্ভব নয়।’

রিজভী বলেন, ‘শেখ হাসিনার হাতে বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা পঁচে গলে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। নির্বাচনের নামে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের কারাগারে ভরে নির্বাচনী সার্কাস করে লাভ নেই। বার বার ঘুঘু তুমি খেয়ে যাও ধান এবার ঘুঘু বধ করতে ১৮ কোটি জনগনের সঙ্গে আছেন গোটা গণতান্ত্রিক বিশ্ব।’