নিজের গোলে নিজেই মুগ্ধ মিগেল

ফিটনেসে ঘাটতি ছিল বলেই মিগেল ফিগেইরার সঙ্গে চুক্তি নবায়ন নিয়ে খানিকটা দ্বিধায় ছিলেন বসুন্ধরা কিংসের কর্তারা। এই ব্রাজিলিয়ানকে ছাড়াই তারা এএফসি কাপ অভিযান শুরু করে মাজিয়ার বিপক্ষে মালেতে ৩-১ গোলে হেরে। ওই হারের পরেই তড়িঘড়ি নবায়নের আনুষ্ঠানিকতা সেড়ে মিগেলকে ফিরিয়ে আনে কিংস। এই সিদ্ধান্তর সুফলটা পুরো এএফসি কাপ জুড়েই পাচ্ছে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নরা। সোমবার কিংস অ্যারেনায় ম্যাচের শেষ মুহূর্তে তার মোহনীয় গোলে মাজিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপসেরার খুব কাছে পৌঁছে গেছে কিংস। এমন গোল সচারচর দেখা যায় না। বক্সের প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে এই ব্রাজিলিয়ানের রঙধনু শট মাজিয়া কিপারকে কোন সুযোগ না দিয়ে জমা হয় দূরের পোস্টে। এএফসি কাপে তিনি পান তৃতীয় গোল। আর কিংসের সামনে প্রথমবারের মতো গ্রুপসেরা হওয়ার হাতছানি। দল জেতানো এই গোলের গল্পটা বলতে পর্তুগিজ ভাষায় বলেছেন মিগেল। পাশে বসা কোচ অস্কার ব্রুজন ইংরেজিতে তার তরজমা করে দেন, 'গোলকিপারকে একটু এগিয়ে থাকতে দেখেই তড়িৎ সিদ্ধান্ত নেই শট নেওয়ার। এটা যে এতটা নিঁখুতভাবে জালে জড়াবে আমিও ভাবিনি।'

ভাবেননি বলেই এই গোলের উদযাপন করতে গিয়ে এক মুহূর্তে জার্সি খুলে ফেলতে চেয়েছিলেন মিগেল। তবে আবেগ সংবরণ করে জার্সিটা খোলার ভুল করেননি। কারণ জানেন, এখানেই শেষ নয়। সামনে আরো ৯০ মিনিট অপেক্ষা করছে। সেটা উতরে যেতে পারলে আসছে ক্রিসমাসের উদযাপনটা হবে সীমাহীন। ব্রুজোনের বরাতে মিগেল আরও বলেছেন, 'আমি সত্যি খুশি দলকে একটি ইতিবাচক ফল এনে দিতে সহায়তা করতে পেরে। একই সঙ্গে দলের সমন্বিত চেষ্টা, পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসেই মিলেছে এই জয়।' মাঠে যতটা পারদর্শী, মিগেল কথায় ততটা নন। তাই এমন জয়ের পর কথার দায়িত্বটা সাড়তে হয়েছে ব্রুজোনকেই। এমনিতেই কোচ ভীষণ পেশাদার। নিজেকে ও দলকে সামলে রাখতে জুড়ি নেই। তবে ব্রুজোনও এমন জয়ে স্বীকার করে নিলেন, 'আগের দিন আবেগ সংবরণ করার কথা বলেছিলাম আমরা। তবে এটা সবসময় সংবরণ করা অসম্ভব।' শুরুর হোচট সামলে দারুণভাবে এগিয়ে চলছে তার দল। টানা চার ম্যাচ থেকে তারা ১০ নিয়ে এখন আছে গ্রুপের শীর্ষে। অথচ পাঁচ ম্যাচেই তাদের শুরুতে গোল হজম করতে হয়েছে। প্রথম ম্যাচে ফেরার অসাধারণ গল্প লেখা হয়নি, যেটা হয়েছে শেষ চার ম্যাচে। তবে এটা নিয়ে ভীষণ চিন্তিত ব্রুজোন। জয়ের কৃতিত্ব কিংস অ্যারেনায় উপস্থিত প্রায় সাত হাজার দর্শককে দিয়ে ব্রুজোন বলেন, 'প্রথম এই সমর্থন ছাড়া এভাবে ঘুড়ে দাঁড়ানো যেতো না। তাই সমর্থকদের এমন আবহ উপহার দেওয়ায় কৃতজ্ঞতা জানাই। দ্বিতীয়ত, দুর্ভাগ্যবশত পাঁচ ম্যাচেই আমরা আগে গোল হজম করেছি। এরপর ফিরে আসতে আমাদের আগের পরিকল্পনায় বদল আনতে হয়েছে। এটা এখন পর্যন্ত ভালোভাবে কাজ করেছে, তবে এটা নয় যে এটা আমরা ধারাবাহিকভাবে করতে পারবো। গোল আগে হজম করে আমরা সবসময় প্রতিপক্ষকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে সহায়তা করছি। ম্যাচের শুরুতে মাজিয়া মাঝমাঠে খেলছিল। এরপরই যখন তারা ম্যাচটা জিততে গোলের জন্য এলো এবং সেটা পেয়েও গেলো। গোল করে আবার ওরা রক্ষণে মনযোগী হওয়ায় আমাদের জন্য ফিরে আসাটা কঠিণ হয়ে গিয়েছিল প্রথমার্ধে। এরপর বিরতির সময় ছেলেদের বলেছি আড়াআড়ি বল খেলতে এবং মাঝামাঝি জায়গা দিয়ে আক্রমণে না যেতে, কারণ মাজিয়া সেখানে অনেক বেশি খেলোয়াড়কে মজুদ করেছিল। আমি একটু ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। কারণ আমরা দশটারও বেশি পরিস্কার সুযোগ তৈরী করেও ওদের প্রতিরোধ ভাঙতে পারিনি। শেষ পর্যন্ত ভালো লাগছে এই কারণে আমরা এখনও শীর্ষে আছি। তবে এটাই শেষ নয়।' একটা সময় কিংস অ্যারেনায় কালো মেঘ দেখতে শুরু করেছিলেন ব্রুজোন, 'সত্যিই একটা সময় কিংস অ্যারেনার আকাশ খুব কালো মনে হচ্ছিল আমার কাছে। তবে ছেলেরা গোল খাওয়ার পর যেভাবে প্রতুত্তর দিয়েছে, তাতে ভালো লাগছে, এটা হৃদয়ও ছুঁয়ে যাচ্ছে। তবে আমরা এই ব্যাপারটা খুব করে চাই এড়িয়ে যেতে। চাই শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে খেলতে।' 

সোমবার অপর ম্যাচে ওড়িশা উড়িয়ে দিয়েছে মোহনবাগানকে। ১১ ডিসেম্বর সেই ওড়িশাকে তাদের মাঠে মোকাবেলা করতে হবে। ওড়িশা জেতায় সেই ম্যাচে ড্র হলেই চলবে কিংসের। তবে ব্রুজোন চাইছেন জয় দিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছতে। একক নৈপুন্যে মিগেল যেভাবে ম্যাচ জেতালেন, এর সঙ্গে আরেক প্লে-মেকার রবসন রবিনহো ফিরলে ওড়িশাকে হারানো অসম্ভব লক্ষ্য নয় কিংসের জন্য। ঘরে তো ওড়িশাকেও তারা হারিয়েছে ৩-২ ব্যবধানে। এবং সেই ম্যাচেও আগে পিছিয়ে পড়ে।