কী কারণে গ্রিসের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক বাতিল করলেন সুনাক

গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিৎসোতাকিসের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে বাতিল করলেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক। গ্রিসের অভিযোগ, আড়াই হাজার বছরের পুরনো পার্থেনন ভাষ্কর্য নিয়ে আলোচনা এড়াতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রিটেন। মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) দুপুরে লন্ডনে এই দুই নেতার বৈঠক হওয়ার কথা ছিল।

গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী বিবৃতিতে বলেছেন, বৈঠকের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল করায় তিনি অসন্তুষ্ট। তার এই বক্তব্য দুই দেশের কূটনৈতিক টানাপড়েনের ইঙ্গিত দেয়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বৈঠকে ব্রিটিশ মিউজিয়ামে থাকা গ্রিসের প্রাচীন ভাস্কর্য ফেরত দেওয়ার বিষয়ে দাবি তোলার কথা ছিল দেশটির প্রধানমন্ত্রীর। উনিশ শতকে ব্রিটিশ কূটনীতিক লর্ড এলগিন পার্থেনন ভাষ্কর্য লন্ডনে নিয়ে আসেন। একসময় অ্যাক্রোপোলিসের মন্দিরে এই ভাষ্কর্য ছিল। তারই একটা অংশ ২০০ বছর ধরে ব্রিটিশ মিউজিয়ামে রয়েছে।

আড়াই হাজার বছরের পুরনো পার্থেনন ভাষ্কর্য নিয়ে আলোচনা এড়াতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রিটেন

কিরিয়াকোস মিৎসোতাকিস বলেন, গ্রিস ও ব্রিটেনের মধ্যে ঐতিহ্যগতভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আছে। আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পরিধি অনেক বড়। আর পার্থেনন ভাষ্কর্য নিয়ে গ্রিসের অবস্থান পুরনো ও সবাই তা জানে। যদিও গত মার্চে সুনাক জানিয়ে দেন, যুক্তরাজ্য তার আইন পরিবর্তন করবে না, যার অর্থ পার্থেনন ভাস্কর্য গ্রিসে পাঠানো যাবে না।

গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের সময় বিষয়টি তুলব বলে আশা করেছিলাম। এছাড়া গাজা, ইউক্রেন, জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসনের মতো বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনার সুযোগ ছিল। তবে যদি কেউ মনে করে তার অবস্থান যুক্তিসঙ্গত, তাহলে আলোচনায় ভয় থাকে না।

এ বিষয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বলছে, গ্রিসের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ন্যাটোয় আমরা একসঙ্গে কাজ করি। আমরা অভিবাসন, মধ্যপ্রাচ্যের সমস্যা, ইউক্রেন সমস্যার সমাধানেও একসঙ্গে কাজ করছি। তবে বিবৃতির কোথাও পার্থেনন ভাষ্কর্যের প্রসঙ্গ নেই। যদিও সুনাকের বদলে এ বিষয়গুলো নিয়ে ব্রিটিশ উপপ্রধানমন্ত্রী অলিভার ডাওডেনের সঙ্গে আলোচনা করার সুযোগ ছিল গ্রিসের প্রধানমন্ত্রীর।