ছাত্রীকে নিয়ে উধাও প্রধান শিক্ষক

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তিনদিন ধরে ৯ম শ্রেণির ছাত্রীকে নিয়ে উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। 

মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) দুপুর পর্যন্ত ছাত্রীকে উদ্ধার ও অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা যায়নি। এ ঘটনায় অভিযোগ হলে ছাত্রীসহ শিক্ষককে খোঁজছে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ। এ নিয়ে এলাকায় চলছে নানা সমালোচনা। তবে মেয়েকে ফিরে পেতে কান্নাজড়িত কণ্ঠে আকুতি জানান তার বাবা।

ওই শিক্ষক ঢাকার ধামরাই থানার জামিরাবাড়ী এলাকার বেলায়েত হোসেনের ছেলে রতন আলী। তিনি সাটুরিয়া শোলহাটি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।

এলাকাবাসী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈর উপজেলার সাটুরিয়াচালা এলাকার সাটুরিয়া শোলহাটি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রতন আলী এ ঘটনা ঘটান। গত ছয় মাস আগে তিনি ওই বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি ওই বিদ্যালয়ের গণিত বিষয়ের শিক্ষক। এরপর ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অবসরে গেলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হন রতন আলী।

গত বৃহস্পতিবার তিনি তার চিকিৎসার কথা বলে ৩ দিনের ছুটি নিয়ে চলে যান। এরপর রোববার সকালে প্রাইভেট পড়ার কথা বলে ওই বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির এক ছাত্রীও বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। বিষয়টি বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা ও পরিবারের লোকজন অনেক খোঁজাখুজি করেও তাদের কোনো হুদিস পায়নি। ছাত্রীকে নিয়ে উধাও হওয়ার ঘটনায় ওইদিনই তার বাবা বাদি হয়ে কালিয়াকৈর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। 

এরপর থেকে উধাও হওয়া ছাত্রীসহ ওই শিক্ষককে খোঁজছে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ। এ ঘটনার পর ওই বিদ্যালয় ছাড়াও আশপাশের বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ বিভিন্ন এলাকায় নানা সমালোচনার ঝড় উঠেছে। তবে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিয়ম-মাফিক আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। 

এদিকে মেয়েকে ফিরে পেতে নানা আকুতি জানাচ্ছেন পরিবারের লোকজন। এসময় তার বাবা আলী আহম্মেদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ওই শিক্ষকের স্ত্রী-সন্তান থাকার পরও আমার অপ্রাপ্ত বয়সের অবুঝ মেয়েকে ফুসলিয়ে নিয়ে গেছে। সুস্থ অবস্থায় আমার মেয়েকে ফেরত চাই। আর শিক্ষক নামের ওই অমানুষের কঠিন বিচার চাই।

ওই বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য শামীম আল রাজী জানান, আমার মনে হচ্ছে এই ঘটনা একটি পরিকল্পিত ঘটনা। এ ঘটনা শুনার পর ওই শিক্ষককে সাময়িক বহিঃস্কার করা হয়েছে। তবে ঘটনাটি পুরোপুরি প্রমাণিত হলে উনার সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

কালিয়াকৈর থানাধীন মৌচাক ফাঁড়ি পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম জানান, এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ হয়েছে। ওই ছাত্রীকে উদ্ধারসহ শিক্ষককে আটকের চেষ্টা চলছে। 

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ জানান, বিষয়টি জানার পর ওই শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। কিন্তু উনাকে পাচ্ছি না। তবে এ বিষয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।