সিলেটে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম দিন শেষে ৯ উইকেটে ৩১০ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ। এই ম্যাচ দিয়েই টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের তৃতীয় চক্রের সূচনা করল টাইগাররা। তবে শুরুটা হতে পারত আরও দুর্দান্ত।
দিনশেষে ৩০০ পেরোনো স্বস্তির মৃদু বাতাস বইলেও আক্ষেপের পাল্লাটা বেশি ভারী। দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যাটিংয়ের বদৌলতে উইকেট বিলানোর মহড়ায় শঙ্কার মেঘ ভর করার কথা টিম ম্যানেজমেন্টের চিন্তার আকাশে।
গতকাল সিলেটের উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য তেমন কঠিন ছিল না। নতুন বলে কিউই বোলাররাও পাচ্ছিলেন না তেমন একটা সুবিধা।
সাউদি-জেমিসনরা গতি, সুইং কিংবা বাউন্স কিছুতেই বিপদে ফেলতে পারেননি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের। দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে টার্নও কমতে থাকে। বল পুরনো হওয়ার পরও তীক্ষè টার্ন দেখা যায়নি তেমন একটা। এর মাঝেও পার্টটাইম গ্লেন ফিলিপসকে উইকেট উপহার দিয়েছেন ব্যাটাররা।
এমন উইকেটে বাংলাদেশের ১১ ব্যাটসম্যানের ১০ জন দুই অঙ্ক ছুঁয়েছেন। কিন্তু ৫০ করেছেন শুধু একজন। সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে জয় আউট হয়েছেন ৮৬ রানে। ৩০ পেরিয়ে শান্ত-মুমিনুল দুজনই খেলেছেন ৩৭ রানের ইনিংস। মুশফিকুর রহিম, মেহেদী হাসান মিরাজ, নুরুল হাসান সোহানরাও ডুবিয়েছেন হতাশায়। অভিষেক ইনিংসে ভালো শুরুর ঝলক দেখিয়েও হতাশ করেছেন শাহাদাত হোসেন দীপু। ফিরেছেন ২৪ রানে।
তবে একটা জায়গায় সবাই ছিলেন একই রকম। কেউই তেমন ভালো কোনো ডেলিভারিতে আউট হননি। প্রায় সবাই ফেরেন আলগা শট খেলে। দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে তাই জয়ের কণ্ঠে ঝরে পড়ল আক্ষেপ। বললেন, ‘অবশ্যই । আমার ইনিংস বড় করার সুযোগ ছিল। কিন্তু আমি দুর্ভাগ্যবশত মিস করে ফেলেছি। একজন ওপেনার হিসেবে আমার প্রতিদিন এমন সুযোগ আসে না...। সেট হওয়ার, বড় স্কোর করার। আজকে এসেছিল, মিস হয়ে গেছে।’
টেস্টের মতো ক্রিকেটের বনেদি সংস্করণটিতে এমন আক্ষেপে পোড়া নতুন কিছু নয় বাংলাদেশের সমর্থকদের কাছে। হতাশা আর বুকে কষ্ট জমা করেই আজ তাইজুল-শরিফুলের ব্যাটের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে আবার।