নড়াইল পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে জেলা পরিষদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিকার চেয়ে গতকাল মঙ্গলবার সকালে পৌর পরিষদ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশফাকুল হক চৌধুরীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ১৯৩৯ সালে তৎকালীন যশোর ডিস্ট্রিক্ট বোর্ড তৎকালীন নড়াইল ইউনিয়ন বোর্ডকে (বর্তমান পৌরসভা) নড়াইল শহরের ৭৪ নম্বর মহিষখোলা মৌজার প্রায় ৪ একর ২১ শতাংশ জমির মালিকানা প্রদান করে। এরপর থেকে জমির সব উন্নয়নমূলক কাজ, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জায়গা ও জমি লিজ প্রদান, পৌরসভার একাধিক মার্কেট নির্মাণ এবং বার্ষিক ইজারা দিয়ে আসছে। এ জমির ভূমি জরিপ ও আরএস রেকর্ডও পৌরসভার নামে রয়েছে এবং ২০২৩ সাল পর্যন্ত ভূমি অফিসের কর পরিশোধ রয়েছে। সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নড়াইল শহরের কালিদাস ট্যাংক পুকুর বিউটিফিকেশন, মৌসুমি সুপার মার্কেট পুনর্নির্মাণ, অত্যাধুনিক কসাইখানা নির্মাণসহ কয়েকটি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। এ ছাড়া নড়াইল চৌরাস্তা-শিল্পকলা-জজকোর্ট হয়ে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ পর্যন্ত রাস্তা প্রশস্তকরণ ও ড্রেন নির্মাণ এবং সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কিন্তু জেলা পরিষদ এসব জায়গার মালিকানা দাবি করে পৌরসভার উন্নয়ন প্রকল্পে বাধা প্রদান করে। জেলা পরিষদ পৌরসভার ৪ একর ২১ শতাংশ জমি দাবি করে আইনের আশ্রয় নিয়েছে। গত ২ নভেম্বর নড়াইল সদরের দেওয়ানি আদালতের বিচারক এনামুল হক ওই জমিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ জারি করেন। ফলে পৌরসভার এসব উন্নয়নকাজ বন্ধ হয়ে গেছে।
পৌরসভার মেয়র আঞ্জুমান আরা বলেন, ‘চলমান কাজ বন্ধ হলে পৌর নাগরিকদের ভীষণ ক্ষতি হবে। পৌরসভার দাপ্তরিক কাজও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব ও জেলা প্রশাসকের সহযোগিতা কামনা করেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশফাকুল হক চৌধুরী বলেন, ‘পৌর পরিষদের দেওয়া স্মারকলিপির কপি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মাননীয় সচিব বরাবর পাঠানো হচ্ছে। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে।’