বিএনপির জেষ্ঠ্য যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সারা দেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে চলছে মাতম আর মর্সিয়া। কান্নার আহাজারিতে এক বিষণ্ন, গুমোট অবস্থা বিরাজ করছে জনসমাজে। আজ বৃহস্পতিবার (২৯ নভেম্বর) ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, হাতিরঝিলের বাসা থেকে বের হওয়ার সময় ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান খোকনকে বর্বোরচিত আক্রমণ করে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী ক্যাডাররা। প্রচণ্ড মারধরের পর রক্তাক্ত খোকনকে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেয়। আইন প্রয়োগকারীসংস্থা আর সশস্ত্র আওয়ামী ক্যাডাররা একই সেনাদলে পরিণত হয়েছে। তাদের কাজ শুধু শেখ হাসিনার আক্রোশ বাস্তবায়ন করা।
তিনি বলেন, দুইজন শিশু বর্ষা ও নুরী চিৎকার করে কাঁদছে তার মায়ের মুক্তির জন্য। গোয়েন্দা পুলিশ শিশুদের বাবাকে না পেয়ে তার মাকে ধরে নিয়ে গেছে। ছয় বছরের শিশু সিয়াম বুকফাটা আর্তনাদ করছে তার কারাবন্দি বাবা আবুল কালামের জন্য। পিতা আব্দুল হাইয়ের তিন সন্তানকে কারান্তরীণ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে এক ছেলের হয়েছে ১০ বছর সাজা। আরেক ছেলেকে না পেয়ে তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে তিনদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের ঘটনার বর্ণনা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হবে।
বিএনপির নেতাকর্মীরা এক কঠিন সময় পার করছে জানিয়ে বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, বিগত ১৫ বছরে অনেককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, চাকরি থাকলেও কোনো পদোন্নতি পাননি, ব্যাবসা-বাণিজ্য কেড়ে নেওয়া হয়েছে, দোকান-পাট, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ভেঙে ফেলা হয়েছে। ঘর ছাড়া, বাড়ি ছাড়া, এলাকা ছাড়া নেতাকর্মীরা ধান ক্ষেতে মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দৃশ্য দেশবাসী দেখেছে। সুপারির বাগান, ফলের বাগান এবং রান্না ঘরের লাকড়ি রাখার স্তুপের মধ্যে কোনো রকমে জায়গা করে রাত পার করছে বিএনপি’র নেতাকর্মীরা। রাষ্ট্র এখন তার নাগরিকদের জীবন আর সম্পদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয় না। রাষ্ট্র বলতেই এখন শুধুমাত্র শেখ হাসিনা।
বিএনপি’র নেতাকর্মীদের মানবাধিকার থাকতে নেই মন্তব্য করে রিজভী বলেন, সংবিধানে যতটুকু মানবাধিকার আছে সেই অধিকার প্রয়োগেরও অধিকার নেই বিএনপি’র নেতাকর্মীদের। হত্যা, লুণ্ঠন ও বন্দি হওয়াই যেন তাদের ভাগ্যের লিখন। শেখ হাসিনার নীতিই যেন হয় আমাকে সমর্থন কর, না হলে নিশ্চুপ থাক। আওয়ামী শাসকগোষ্ঠীর উগ্র-প্রচারের বিরুদ্ধে টু-শব্দ করতে পারবে না। লুণ্ঠন আর হত্যা যেন কোনো অমানবিক কাজ নয় ক্ষমতাসীনদের কাছে। শেখ হাসিনা লেলিয়ে দিয়েছেন তার পেটোয়া বাহিনীকে- যারা মনে করে লুটপাট, সহিংসতা ও হত্যা যেন তাদের দলীয় কর্তব্য।