সিআইডি কর্মকর্তা পরিচয়ে ইজিবাইক চুরি করতেন তারা, অবশেষে ধরা

নকল পরিচয়পত্র দেখিয়ে নিজেদের পরিচয় দিতেন সিআইডি কর্মকর্তা। এরপর ইজিবাইক ভাড়া করে চেতনানাশক ওষুধ দিয়ে চালকদের অজ্ঞান করে ইজিবাইক চুরি করে নিয়ে যেতো এই চক্রটি। এমনি একটি ঘটনা গত ২৬ নভেম্বর (রবিবার) ঘটেছে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলা বাজারে। অভিযোগের পর তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অবশেষে বুধবার ভোরে আন্তঃজেলা ইজিবাইক চোর চক্রের সক্রিয় তিনজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

দেশ রূপান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করে নীলফামারীর জলঢাকা থানার ওসি মুক্তারুল আলম জানান, বুধবার সন্ধ্যায় আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার রাজিব টোপামুধুপুর এলাকার আব্দুল আউয়ালের ছেলে সাজু আহমদ পায়েল (৩১), রংপুর মহানগরীর হাজিরহাট দক্ষিণ বিন্নাটারী এলাকার আব্দুস ছামাদের ছেলে মিজানুর রহমান বাবু (৪০) ও একই এলাকার মৃত নুর ইসলামের ছেলে শফিকুল ইসলাম (৪৫)। 

থানা সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ নভেম্বর সকাল ১০টার দিকে জলঢাকা বাজারের অগ্রণী ব্যাংকের সামনে একটি ইজিবাইক ভাড়া করেন চোর চক্রের সদস্যরা। পরে চালককে জলঢাকা-রংপুর সড়কের ক্যানেলে পাশে একটি হোটেলে ভাত খাওয়ানোর পর চালককে অজ্ঞান করে ইজিবাইকটি নিয়ে পালিয়ে যান তারা। পরে ওই চালক জলঢাকা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা রুজুর পর তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় গত মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত টানা ৮ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য পায়েলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে পায়েলের তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তার দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় চুরি করা তিনটি ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়। 

ওসি মুক্তারুল আলম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা ইজিবাইক চুরিক কথা স্বীকার করেছেন। তারা সিআইডি কর্মকর্তার পরিচায় ধারণ এবং চেতনানাশক ওষুধ দিয়ে ইজিবাইকচালকদের অজ্ঞান করতেন। এভাবে তারা দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ইজিবাইক, অটোরিকশা চুরি করতেন। তারা প্রায় ২০ থেকে ২৫টি ইজিবাইক ও অটোরিকশা চুরি করেন। পায়েলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানার ১৫টি চুরির মামলা রয়েছে। দলের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তার ও ইজিবাইক উদ্ধারের কাজ অব্যাহত রয়েছে।