তরুণ নির্মাতা নূর ই আলম তৈমুর ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছেন। গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে খিলক্ষেত এলাকায় ৩৪ বছর বয়সী এই নির্মাতার মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন রেল পুলিশের বিমানবন্দর ফাঁড়ির ইনচার্জ সানু মং মারমা। তবে নিহত তৈমুরের স্ত্রী বলছেন এক নারীকে বাঁচাতে গিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যান তৈমুর।
সে সময় প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে রেলওয়ে পুলিশ বলছিল, তৈমুর কানে হেডফোন লাগিয়ে কথা বলতে বলতে রেললাইন পার হচ্ছিলেন। ওই সময় দুই দিক থেকে দুটি ট্রেন আসছিল। তৈমুর একটি ট্রেন দেখলেও অন্যটি খেয়াল করেননি। চট্টগ্রামগামী মহানগর প্রভাতী ট্রেনে কাটা পড়েন তিনি।
তবে হেডফোন কানিয়ে লাগিয়ে রেল লাইন অতিক্রমের তথ্য মেনে নিতে পারেননি তৈমুরের স্ত্রী মাসনুনা। বরং সামাজিক মাধ্যমে এটা নিয়ে যখন ক্রমাগত কথা হচ্ছিল, সে কথা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি।
মাসনুনা বলেন, আমার স্বামী কানে হেডফোন ব্যবহার করায় শুনতে পাননি, এ অভিযোগ ভিত্তিহীন। বরং ঘটনাস্থলে উপস্থিত একজনকে বাঁচাতে গিয়ে তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী সেই বিবরণ দিয়েছেন। সংসারজীবনে আমি কখনো দেখিনি হেডফোন দিয়ে ওকে মোবাইলে গান শুনতে।
তিনি বলেন, দুর্ঘটনাস্থল থেকে খিলক্ষেত থানার একজন মোবাইল উদ্ধার করেছিলেন। আমাকে সাথে সাথেই বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। সব চেক করেছি তখনই। দুর্ঘটনার আগে ফোন কল বা সামাজিক মাধ্যম- কোনো মাধ্যমেই সে কথা বলেনি। তাহলে কানেই ফোন বা হেডফোন থাকবে কেন?’
তৈমুর বেসরকারি সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেনের কর্মকর্তাও। সাত মাস বয়সী এক সন্তানের বাবা তৈমুরের বাড়ি ঢাকার মোহাম্মদপুরে। খিলক্ষেত এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় পরিবার নিয়ে থাকতেন তিনি।
তৈমুরের নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ২০২২ সালে জাপানের ডিজিকন৬ এশিয়া কনটেস্টে পুরস্কৃত হয়েছিল। ‘দ্য আদার সাইড’ ও ‘যাত্রা’ নামের আরও দুটি স্বল্পদৈর্ঘ্য তিনি তৈরি করেছেন। স্বপ্ন ছিল বড় নির্মাতা হওয়ার। তবে অকালেই সেটা ঝরে গেল।