‘অ্যানিমেল’ মুক্তির অনুমতি দেওয়ায় জাজের অভিযোগ

নানা কাঠখড় পুড়িয়ে বহু বছর পর দেশে হিন্দি সিনেমার আমদানি প্রক্রিয়া চালু হয়েছে। গত কয়েক মাসেই ইতিমধ্যে দেশে তিনটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে এ প্রক্রিয়ায়। সাফটা চুক্তির আওতায় ‘পাঠান’, ‘জওয়ান’ ও ‘কিসি কা ভাই কিসিকা জান’ আমদানি করেছে প্রযোজনা ও পরিবেশক প্রতিষ্ঠান অ্যাকশন কাট এন্টারটেইনমেন্ট। 

অন্যদিকে একই চুক্তি মেনে দেশে ‘টাইগার থ্রি’ ও ‘মানুষ’ সিনেমা আমদানি করতে চেয়ে অনুমতি পায়নি দেশের আরেক প্রযোজনা ও পরিবেশক প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়া। ভারতীয় চলচ্চিত্র আমদানিতে মন্ত্রণালয়ের অনুমতি না পাওয়া নিয়ে গতকাল বুধবার সম্মিলিত চলচ্চিত্র পরিষদ (১৯ সংগঠন) এ এক লিখিত অভিযোগ দেয় জাজ মাল্টিমিডিয়া।

অভিযোগে বলা হয়, ভারতীয় চলচ্চিত্র “টাইগার-৩” ও “মানুষ” আমদানি সাপেক্ষে যথারীতি আপনাদের ১৯ সংগঠনের প্রত্যয়ন পত্র ও আমদানীর সকল কাগজ পত্রসহ তথ্য মন্ত্রণালয়ে মাননীয় তথ্য সচিব বরাবর আবেদন করি। উক্ত আবেদনের প্রেক্ষিতে ২/১১/২০২৩ ইং তারিখে মন্ত্রণালয়ে আমদানি বিষয়ক মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রণালয়ের আমদানি বিষয়ক মিটিং এ “টাইগার-৩” চলচ্চিত্রটি অনুমোদন করা হয় এবং “মানুষ” চলচ্চিত্রটি পরবর্তী সময়ে অনুমতি প্রদান করা হবে এই মর্মে সিদ্ধান্ত হয়। অতিব দুঃখের বিষয় আমাদের “টাইগার-৩” চলচ্চিত্র এর অনুমোদিত ফাইলটি ০২/১১/২০২৩ ইং তারিখে রেজ্যুলেশন ও সচিব মহোদয়ের অনুমোদন সহ বেলা ৩:০০ ঘটিকায় মন্ত্রী মহোদয় বরাবর উপস্থাপিত হয় এবং তার এক সপ্তাহ পর “মানুষ” চলচ্চিত্রটি আমদানির জন্য পুনরায় আবেদন করা হয়। কিন্তু আমদানী ও রপ্তানী বিষয়ে একাধিক বার মিটিং হওয়া সত্তেও “মানুষ” চলচ্চিত্র এর আমদানির বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়নি। আমদানি অনুমতি পাইতে ব্যর্থ হলে “মানুষ” চলচ্চিত্র এর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ হইতে আমদানি চুক্তি বাতিল করার জন্য আমাকে বার বার তাগিদ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আমি ২৩/১১/২০২৩ ইং তারিখে “মানুষ” চলচ্চিত্রটির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সাথে আমদানি চুক্তি বাতিল করি ও বিষয়টি মন্ত্রণালয় বরাবর অবহিত করি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, আমরা 'মানুষ' সিনেমার চুক্তি বাতিল করার পর অন্য একটি পরিবেশক প্রতিষ্ঠান “মানুষ” চলচ্চিত্রটি দেশে আমদনি করার অনুমোদন পায়। এটা ছাড়াও ভারতীয় চলচ্চিত্র “অ্যানিমেল” মন্ত্রণালয় হইতে আমদানির অনুমোদন পায়। অথচ আমাদের জমা দেওয়া ভারতীয় চলচ্চিত্র “টাইগার-৩” এর অনুমতি পায়নি।

অতএব উপরোক্ত বিষয়টি বিবেচনা করে আমাদের বিষয়টি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত পরবর্তীতে ভারতীয় চলচ্চিত্র আমদানীর অনুমোদন প্রদান না করার জন্য বিনয়ের সহিত অনুরোধ করা হইল।

এ বিষয়ে জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আব্দুল আজিজ দেশ রূপান্তরকে বলেন, এখানে নিশ্চয়ই কোন একটা সিন্ডিকেট কাজ করছে। আমরা সব নিয়ম মেনে আমদানির জন্য অনুমতি চাইলেও সেটা পাচ্ছি না। চলচ্চিত্র সম্মিলিত পরিষদের অনাপত্তিপত্র নিয়ে তারপর তথ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছি তারপরও অনুমতি পাই নি। কিন্তু তারা ১৯ সংগঠনের অনাপত্তিপত্র ছাড়াই কীভাবে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পায়? এটা আমার প্রশ্ন!  

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হয় চলচ্চিত্র সম্মিলিত পরিষদের আহবায়ক খোরশেদ আলম খসরুর সঙ্গে। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, চলচ্চিত্র সম্মিলিত পরিষদের অনাপত্তিপত্র ছাড়া তথ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি কীভাবে পায়, সেটা আমরাও জানি না। তবে আমাদের মনে হয়, নিয়ম সবার জন্য এক হওয়া উচিত। একজন পাবে, আরেকজন পাবে না-এমনটা হওয়া উচিত না। 

আগামী ৪ ডিসেম্বর সবাইকে নিয়ে একটা সভা ডেকেছি। সেদিন 'অ্যানিমেল' এর অনাপত্তিপত্র দেওয়া এবং 'টাইগার থ্রি' ও 'মানুষ' এর অনুমতি না পাওয়া বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করব।