চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচন করতে চান ৬ দলের প্রধান

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসন থেকে নির্বাচন করতে চান ছয়টি রাজনৈতিক দলের প্রধান। বৃহস্পতিবার রিটার্নিং অফিসার কার্যালয়ে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন তারা।

তারা হলেন, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান মাওলানা এম এ মতিন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুদ্দিন মাইজভান্ডারি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের (বিএনএফ) চেয়ারম্যান এস এম আবুল কালাম আজাদ ও সম্প্রতি আত্মপ্রকাশ করা প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক ফোরামের চেয়ারম্যান মো. নাজিম উদ্দিন।

রিটার্নিং অফিসার কার্যালয় সূত্র জানায়, দলীয় প্রধানদের মধ্যে সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। ওই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য তিনি। ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হন তিনি।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদ ফ্রন্ট (বিএনএফ) এর চেয়ারম্যান এস এম আবুল কালামা আজাদ মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালি) আসনে। ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে বিএনপির সমর্থনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে পরাজিত হন তিনি। চট্টগ্রাম-৫ ছাড়াও ঢাকা ও কক্সবাজারের একাধিক আসনে এবার মনোনয়ন পত্র জমা দেন তিনি।

বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান মাওলানা এম এ মতিন চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে মনোনয়নপত্র নিয়েছেন। এর আগে একাধিক সংসদ নির্বাচনে তিনি দলীয় প্রার্থী হিসাবে মোমবাতি প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি।

সদ্য আত্মপ্রকাশ করা রাজনৈতিক দল প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক ফোরামের চেয়ারম্যান চাকসুর সাবেক ভিপি নাজিম উদ্দিন মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে। নির্বাচন কমিশনে তার দলের নিবন্ধন না থাকলেও অন্য তৃণমূল বিএনপির সঙ্গে জোট গঠন করে নির্বাচন করতে যাচ্ছেন বিএনপির এই সাবেক নেতা।

এ ছাড়া একটি দলের কো-চেয়ারম্যান ও তিনটি দলের সাধারণ সম্পাদক চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এরা হলেন, জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসন, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসন, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা জয়নুল আবেদীন জুবাইর চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং) ও চট্টগ্রাম-১১ (পতেঙ্গা-বন্দর) আসন এবং বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব স উ ম আবদুস সামাদ চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে  মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

রিটার্নিং অফিসার কার্যালয় সূত্র জানায়, নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে বৃহস্পতিবার বিকেল চারটা পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেন। আজ বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। এরপর ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাই করা হবে। ৫ থেকে ৯ ডিসেম্বর রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরূদ্ধে আপিল দায়ের, ১০ থেকে ১৫ ডিসেম্বর আপিল নিষ্পত্তি ও ১৭ ডিসেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের তারিখ নির্ধারিত রয়েছে।