বিএনপি নেতারা মাঠে না থাকলেও ভাড়া করা লোক দিয়ে নাশকতা, ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগ করছে বলে দাবি করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। তাদের দাবি, ঢাকার বাইরে থেকে তিনশ টাকার বিনিময়ে দিনমজুরদের দিয়ে নাশকতা করাচ্ছে বিএনপি।
ডিবি-প্রধান হারুন-অর-রশীদ শনিবার তার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানতে পেরেছেন- বিএনপির নেতারা মাঠে সক্রিয় থাকতে না পেরে ঘরে বসে বিভিন্ন জায়গা থেকে দিনমজুর ঢাকায় এনে নাশকতা করাচ্ছে।
তিনি বলেন, 'ঢাকা মহানগরের যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দরা ৮টি ভাগে ভাগ হয়ে এই নাশকতা কার্যক্রম চালাচ্ছে। এদের এক গ্রুপ ককটেল সাপ্লাই করে। আরেক গ্রুপ ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। আর এসব কাজের জন্য তাদের বড় ভাইরা টাকা দেন। ঢাকার বাইরে থেকে কিছু দিনমজুর আসে, যারা ডেইলি বেসিসে কাজ করে। তারা ঘরে বসে থেকে দিনমজুর মানুষগুলোকে বিভিন্ন জায়গা থেকে ডেকে এনে তাদের টাকা দিয়ে বোমা বিস্ফোরণ, বাসে আগুন লাগানোর মতো ঘটনা ঘটায়।'
তিনি আরও বলেন, গত ২৯ অক্টোবরে বংশাল তাঁতিবাজার মোড়ে এলাকায় বিহঙ্গ পরিবহনের একটি বাসে আগুন লাগানোর ঘটনায় রাজিব হোসেন বিল্লাল গ্রেপ্তারের পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে কিভাবে, কাদের মদদে বাসে আগুন লাগানো হয়েছে। আদালতে প্রদত্ত ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি, সিসিটিভি ফুটেজ, গঠিত টিমের তথ্যের ভিত্তিতে ডিবির লালবাগ বিভাগ গত ৩০ নভেম্বর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এবং বংশাল ও কোতোয়ালি থানার যুবদল সভাপতি পদপ্রার্থী পারভেজ এবং কেন্দ্রীয় যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সচিব মাহফুজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা চার দিনের পুলিশ রিমান্ডে আছে। এ দুই নেতা তাদের এ ধরনের কাজের কথা স্বীকার করেছে।
'ঢাকা শহরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে রয়েছে' উল্লেখ করে ডিবি প্রধান হারুন বলেন, 'মানুষ এখন কোনোভাবে আতঙ্কগ্রস্ত না। আমরা এখন নির্বাচন কমিশনের দিক-নির্দেশনায় কাজ করছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমাদের পর্যাপ্তসংখ্যক সদস্য কাজ করছে। সুষ্ঠু-স্বাভাবিক ও সুন্দর নির্বাচনের জন্য যারা সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, ওয়ারেন্টভুক্ত ও এফআইআরভুক্ত আসামি, পুলিশ হত্যার আসামি, প্রধান বিচারপতির বাসভবন হামলা-মামলার আসামি যে যেই হোক না কেন তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।