চুক্তি বাস্তবায়নে সরকার সচেষ্ট হবে আশা সন্তু লারমার

পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন হয়নি অভিযোগ করে এটা হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) এবং বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সভাপতি সন্তু লারমা। একই সঙ্গে সরকার এই চুক্তি বাস্তবায়নে সচেষ্ট হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। গতকাল শনিবার পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনায় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

শান্তি চুক্তির ২৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে গতকাল রাজধানী ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙ্গামাটিতেও নানা কর্মসূচি পালন করে বিভিন্ন সংগঠন।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের আলোচনা সভার আয়োজক ছিল পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) এবং বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম। সেখানে আলোচনায় অংশ নিয়ে সন্তু লারমা দেশের সরকার ও শাসকগোষ্ঠীকে চুক্তি বাস্তবায়নে সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানান।

চুক্তির মধ্য দিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ থামানো গেলেও চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে উচ্ছ্বসিত হতে পারছেন না বলে উল্লেখ করেন অনুষ্ঠানের আরেক আলোচক পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশনের কো-চেয়ারপারসন সুলতানা কামাল।

বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচি : পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির কিছু ধারা সাংঘর্ষিক ও বৈষম্যমূলক অভিযোগ করে এসব ধারার সংশোধন দাবি করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ। এ ছাড়া পার্বত্য অঞ্চলে ‘গণহত্যার’ অভিযোগে সন্তু লারমাকে গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। গতকাল চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এই দাবি জানান সংগঠনটির কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান কাজী মো. মুজিবুর রহমান।

বর্ণাঢ্য আয়োজনে বান্দরবানে শান্তি চুক্তির ২৬তম বর্ষপূর্তি উদযাপন হয়েছে। জেলা পরিষদ এবং বান্দরবান সেনা রিজিয়নের উদ্যোগে সম্প্রীতির মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। রাঙ্গামাটিতে নানা কর্মসূচি পালন করে বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান। সকালে রাঙ্গামাটি সেনা রিজিয়ন ও সেনা জোনের উদ্যোগে শান্তি র‌্যালি বের হয়। খাগড়াছড়িতে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে গণসমাবেশ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা)। অন্যদিকে জেলা পরিষদ ও সেনাবাহিনীর খাগড়াছড়ি রিজিয়নের উদ্যোগে শোভাযাত্রা বের হয়। এ ছাড়া জেলার দীঘিনালা উপজেলায় দীঘিনালা সেনা জোনের আয়োজনে শান্তি র‌্যালি ও শোভাযাত্রা বের হয়।

প্রতিবেদনটিতে তথ্য দিয়েছেন চট্টগ্রাম ব্যুরো এবং সংশ্লিষ্ট জেলা-উপজেলার প্রতিনিধিরা।