কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে পূর্ব পুরুষের কবরস্থান রক্ষা করতে গিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় আবুল খায়ের (৭০) ও তার স্ত্রী জাহানারা বেগম (৫০)কে এলোপাথাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী শাহজাহান গং বিরুদ্ধে। রবিবার (৩ ডিসেম্বর) বিকেলে উপজেলার আদ্রা দক্ষিণ ইউপির আঠিয়াবাড়ির গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি আঠিয়াবাড়ি গ্রামের আবুল খায়েরের বড় ভাই রঙ্গু মিয়ার কাছ থেকে গোপনে ২ শতক ৩০ শতাংশ কবরস্থানের জায়গা দলিল করে নেয় একই গ্রামের মৃত. নজির আহম্মেদের ছেলে শাহজাহান। ওই কবরস্থানের গাছ কেটে নতুন বাড়ি করার সিদ্ধান্ত নেন শাহজাহান। এ খবর শুনে আবুল খায়ের বাঁধা দেয়। এ ঘটনায় এলাকায় বেশ কয়েক বার সালিশ বৈঠক হয়। সালিশ বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় কবরস্থানের জায়গা ছেড়ে দিবেন শাহজাহান। সে সঙ্গে আবুল খায়েরকে ওই জায়গাটি কবরস্থানের নামে ওয়াকফ করে দেয়ার জন্য বলেন সালিশদাররা। এ সিদ্ধান্ত মেনে হুট করে রবিবার বিকেলে কবরস্থানের গাছ কেটে মাটি ভরে ভরাট শুরু করে শাহজাহান। এতে আবুল খায়ের বাঁধা দিয়ে বাড়িতে চলে যায়। এর পিছন দিয়ে শাহজাহান তার ছেলে রুবেল, রকি, মেয়ে সালমা আক্তার ও স্ত্রী হিরন বেগমকে সঙ্গে নিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আবুল খায়ের বাড়িতে গিয়ে আবুল খায়ের ও তার স্ত্রী জাহানারা বেগমকে এলোপাথাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন দৌড়ে এসে তাদের উদ্ধার করে নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
এ বিষয়ে আহত আবুল খায়ের বলেন, এ কবরস্থানে আমার ভাই রঙ্গু মিয়া পৈত্রিক সূত্রে ১ শতক ২০ শতাংশ জায়গার মালিক হন। সম্প্রতি গোপন আমার ভাই রঙ্গু মিয়া এ শাহজাহানের কাছে ২ শতক ৩০ শতাংশ কবরস্থানের জায়গা বিক্রি করে ফেলে। শাহজাহান ওই জায়গার মধ্যে বাড়ি করার প্রস্তুতি নেয়। এখানে আমার বাপ দাদাও পূর্বপুরুষদের কবর। যা এ এলাকার শত শত লোক জানে। আমি ওই জায়গা রক্ষা করতে গেলে শাহজাহান ও তার ছেলেরা আমাকেও আমার স্ত্রীকে এলো এলোপাথাড়ি পিটিয়ে আহত করে। আমি এ ঘটনার সুস্থ বিচারের দাবি জানাই। এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাহজাহানের মুঠো ফোনে একাধিক বার কল দিও বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট থানার ওসি দেবাশীষ চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ৯৯৯ এর সংবাদের একটি বয়স্ক লোককে তার পিটিয়ে গুরুতর আহত খবর জানতে পারে। পুলিশ আহতদেরকে নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হওয়ার জন্য বলে। পাশাপাশি থানা অভিযোগ দেয়ার জন্য বলেন। অভিযোগের আলোকে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।