মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়

ডিও লেটারে গঠিত গভর্নিং বডি স্থগিত করল আদালত

নিয়ম না থাকলেও স্থানীয় সংসদ সদস্যের দেওয়া ডিও লেটার (আধা সরকারি পত্র) আমলে নিয়ে গভর্নিং বডি অনুমোদন করায় তা স্থগিত করে দিয়েছে উচ্চ আদালত। একই সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের দেয়া তালিকা ধরে গভর্নিং বডি অনুমোদন দেয়ার জন্য শিক্ষাবোর্ডকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

উচ্চ আদালতের রায় আমলে নিয়ে বিষয়টি নিস্পত্তির জন্য জেলা প্রশাসক ও জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে চিঠি দিয়েছে ঢাকা শিক্ষাবোর্ড।

ঘটনাটি ঢাকা মিরপুরের মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে অস্থিরতা চলছে। এই প্রতিষ্ঠানটির শত কোটি টাকা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে সাবেক এক গভর্নিং বডির সদস্যের বিরুদ্ধে। যেটি নিয়ে দুদক অনুসন্ধান চলমান রয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী নিয়মিত কমিটি না থাকলে এডহক কমিটি অনুমোদন দেয় শিক্ষাবোর্ড। আর তথ্য অনুযায়ী, অধ্যক্ষ বা প্রধান শিক্ষকের দেয়া তালিকা ধরেই সভাপতি, শিক্ষক প্রতিনিধি ও অভিভাবক প্রতিনিধিদের প্রস্তাবিত তিনজন করে দেয়া সদস্যের নাম থেকেই কমিটি অনুমোদন করা হয়।

তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষক প্রতিনিধি মনোনয়ন দেয় জেলা শিক্ষা অফিসার। এ কারণে মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রতিষ্ঠানের তিনজন শিক্ষকের নাম জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে পাঠান। এই তালিকা থেকেই একজনকে মনোনয়ন দেয়ার কথা। কিন্তু তা না করে স্থানীয় সংসদ সদস্যের দেয়া তালিকা থেকেই একজনকে মনোনয়ন দিয়ে ঢাকা শিক্ষাবোর্ডে পাঠান ঢাকা জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল মজিদ।

এছাড়া অভিভাবক প্রতিনিধি মনোনয়ন দেয় জেলা প্রশাসক। এখানে মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পাঠানো তালিকা না নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের দেয়া তালিকা থেকেই অভিভাবক প্রতিনিধি মনোনয়ন দিয়ে ঢাকা বোর্ডে পাঠান ঢাকা জেলা প্রশাসক। এই মনোনয়নের আলোকেই গভর্নিং এডহক কমিটি অনুমোদন দেয় ঢাকা শিক্ষাবোর্ড ।

নিয়ম না মেনে মনোনয়ন দেয়া এবং কমিটি অনুমোদনের বিষয়ে আদালতের নজরে আনেন অভিভাবকরা। এতে আদালত ওই কমিটি ৬ মাসের জন্য স্থগিত করে দেয়। পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের দেয়া তালিকা ধরে গভর্নিং বডি অনুমোদন দেয়ার জন্য শিক্ষাবোর্ডকে নির্দেশনা দেয়া হয়।

আদালতের এই নির্দেশনার পর ঢাকা জেলা প্রশাসক ও ঢাকা জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে চিঠি দিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয় ঢাকা শিক্ষাবোর্ড। 

এ বিষয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান বলেন, আদালতের রায়ে কমিটি স্থগিত রয়েছে। এ কারণে এই এডহক কমিটির কার্যকরিতা নেই। তিনি বলেন, প্রধান শিক্ষকের দেয়া তালিকা ধরেই বিষয়টি নিস্পত্তির কথা বলা হয়েছে।

তবে ঢাকা জেলা শিক্ষা অফিসার ফোন রিসিভ করেননি। আর আগে শিক্ষক প্রতিনিধি মনোনয়ন দেয়ার বিষয়ে এই প্রতিবেদককে বলেছিলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য তালিকা পাঠিয়েছেন। তিনি এই তালিকা দেয়াকে একপ্রকার চাপ মনে করেন বলে জানিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন রাখেন, বলেন-আমি কী করতে পারি।

ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক আবু তালেব মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, আমরা জেলা প্রশাসক ও জেলা শিক্ষা অফিসারকে বিষয়টি অবহিত করে চিঠি দিয়েছি। অপেক্ষা করছি। দুদিন গেলে আপডেট জানাতে পারবো।

তবে অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন, আদালতের রায় থাকার পরও ঢাকা জেলা শিক্ষা অফিসার গড়িমসি করছেন।