মন্ত্রী আসে মন্ত্রী যায় আমলনামা থেকে যায়

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েও পাননি নানা কারণে বিতর্কিত সাবেক তথ্যমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান। মুরাদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য ও কর্মকাণ্ড করতে থাকেন।

মুরাদ প্রতিমন্ত্রীর শপথ নেন ২০১৯ সালে শেখ হাসিনার তৃতীয় মেয়াদের সরকারে। প্রথমে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয় তাকে, পাঁচ মাস পরে তাকে সরিয়ে নেওয়া হয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে।

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও নাতনিকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে আলোচনায় আসেন তিনি। পরে চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি ও নায়ক ইমনের সঙ্গে কথোপকথনের একটি অডিও ফাঁস হলে বিপাকে পড়েন মুরাদ। এক পর্যায়ে দলীয় নির্দেশে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

কেবল মুরাদ হাসান নয় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েও পাননি আরেক বিতর্কিত প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন। তিনি কুড়িগ্রাম-৪ আসনের (রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলা) সংসদ সদস্য। বিগত পাঁচ বছরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে প্রাথমিক শিক্ষার তেমন উন্নতি না হলেও তিনি কাজকর্মে ও কথাবার্তায় ছিলেন বিতর্কিত। আর তার পরিবার এলাকায় গড়েছে সম্পদের পাহাড়। প্রাথমিকের বদলি, নিয়োগ প্রভৃতিতে আর্থিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের-ের কারণেই জাকির হোসেন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাননি। তিনি প্রাথমিক শিক্ষাকেও ডুবিয়েছেন, নিজেও ডুবেছেন। ফলে তাকেও মনোনয়ন বঞ্চিত করা হয়।

টাঙ্গাইল-৪ আসনে এক সময় আওয়ামী লীগের অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতা ছিলেন আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। ২০১৪ সালে আমেরিকায় গিয়ে  লতিফ সিদ্দিকী হজ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যে করেছিলেন। যা সারাদেশে হইচই ফেলে দিয়েছিল। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ইসলামিক দল ও সাধারণ ধর্মপ্রিয় মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। ফলে তাকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ করা হয় এবং আওয়ামী লীগ থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর বিভিন্ন চেষ্টা করেও এক সময়ের দাপটে এই নেতা হারানো গৌরব ফিরে পাননি।

ফরিদপুর-৩ (ফরিদপুর সদর) আসনের একাধিকবারের এমপি ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনও এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাননি। তার পরিবর্তে মনোনয়ন পেয়েছেন ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হক।

মোশাররফ হোসেনও সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে একেরপর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়ান। তার বিরুদ্ধে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ নাখোশ হয়েছিলেন। ফলে আগেই মন্ত্রণালয় হারানো এই ক্ষমতাবান নেতা এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়নও পাননি। ধারণা করা হচ্ছে এখানেই তার রাজনীতির ইতি টানতে হচ্ছে।