রিটার্নধারীর সংখ্যা বেড়েছে ২ লাখ

চলমান অর্থনীতি ও রাজনৈতিক নানা অনিশ্চয়তার মধ্যে করদাতা ও সেবাগ্রহীতারা (২০২২-২৩) করবর্ষের রিটার্ন দাখিল করতে দেখা গেছে। ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত রিটার্ন জমা পড়েছে ২৭ লাখ ৮৭ হাজার, যা গত করবর্ষের (২০২১-২২) তুলনায় ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ বেশি। চলমান হরতাল-অবরোধের পরিপ্রেক্ষিতে আরও দুই মাস সময় বাড়ানো হলেও প্রথম মাসে দুই লাখেরও বেশি করদাতা রিটার্ন দাখিল করেছেন। সব মিলিয়ে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি আয়কর পেয়েছে রাজস্ব বোর্ড।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা যায়, গত করবর্ষের তুলনায় চলতি অর্থবছরে ২ লাখ ৪ হাজার বেশি রিটার্ন জমা পড়েছে। গত অর্থবছরে রিটার্ন জমা পড়ে ২৫ লাখ ৭৭ হাজার।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারের কড়াকড়ি ও রিটার্ন দাখিল না করলে ৪৩টি জাতীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কায় এবার অনেক টিআইএনধারী প্রথমবারের মতো আয়কর জমা দিয়েছেন। এনবিআরের নতুন আইন অনুযায়ী, সব ক্যাটাগরির সরকারি চাকরিজীবীরাও এবার রিটার্নের আওতায় এসেছেন। ফলে চলতি বছর ৩৩ লাখ রিটার্ন জমা ছাড়িয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা এনবিআর কর্মকর্তাদের। দেশে বর্তমানে টিআইএন নিয়েছেন এমন সংখ্যা ৯০ লাখের বেশি।

এদিকে বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, হরতাল-অবরোধ ও জাতীয় নির্বাচনের বিষয়টি বিবেচনায় রিটার্ন দাখিলের সময় দুই মাস বাড়িয়েছে এনবিআর। এর ফলে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। আর কোম্পানি করদাতাদের জন্য রিটার্ন জমার সময় বাড়িয়ে ২০২৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

সাধারণত কোনো ব্যক্তি-করদাতার আয় যদি বছরে ৩ লাখ টাকার বেশি হয়, তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি, নারী ও ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সের করদাতার আয় যদি বছরে সাড়ে ৩ লাখ টাকার বেশি হয়, গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা করদাতার আয় যদি বছরে ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকার বেশি হয় এবং প্রতিবন্ধী করদাতার আয় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি হলে তার রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া আরও অনেক কারণে ব্যক্তিকে আবশ্যিকভাবে রিটার্ন দাখিল করতে হয়। নতুন কর আইন অনুযায়ী ৪৩ ধরনের সেবা গ্রহণ করতে রিটার্ন জমার রসিদ লাগবে। ব্যাংকিংসহ নানা ধরনের নাগরিক সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে রিটার্ন জমার রসিদ থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।