পড়ছেন ৩৬ দেশের শিক্ষার্থী

১৯৯২ সালে দেশে যাত্রা শুরু করেছিল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। সে সময় মূলত দেশের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় সুযোগ করে দিতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গত ৩২ বছরে এ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মহীরূহে পরিণত হয়েছে। দেশের গন্ডি পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বে। বর্তমানে ৩৬ দেশের শিক্ষার্থীরা পড়ছেন দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। এমনকি চলতি বছর দেশের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিদেশেও তাদের ক্যাম্পাস খোলার অনুমতি পেয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ২০২১ সালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৬০৪ জন। এর মধ্যে ছাত্রী ২৯৬ জন। ৩৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এসব শিক্ষার্থী পড়ছেন। আর ২০২০ সালে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৫৫০ জন। অর্থাৎ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে।

যেসব দেশ থেকে শিক্ষার্থীরা আমাদের দেশে পড়তে আসেন, সেগুলো হলো ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান, সাউথ সুদান, চীন, জাপান, ইউএসএ, ইয়েমেন, ফিলিস্তিন, গাম্বিয়া, মরক্কো, কোরিয়া, নাইজেরিয়া, ইরান, তানজেনিয়া, মিয়ানমার, রুয়ান্ডা, ইন্দোনেশিয়া, সোমালিয়া, ইথিওপিয়া, সিয়েরা লিওন, আফগানিস্তান, ফিলিপাইন, অস্ট্রেলিয়া, পাপুয়া নিউ গিনি, কমোরোস, ইউএই, উজবেকিস্তান, কম্বোডিয়া, তুরস্ক, জর্ডান, ঘানা, উগান্ডা ও লাইবেরিয়া।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রতিবছর আমাদের দেশ থেকেও বেশ কিছু উন্নত দেশে শিক্ষার্থীরা পড়তে যান। তবে আমরা যদি আমাদের দেশের উচ্চশিক্ষার মান আরও যুগোপযোগী করতে পারি, নতুন নতুন বিষয় আনতে পারি এবং পড়ালেখার সঙ্গে কর্মবাজারের সংযোগ করতে পারি; তাহলে অনেক শিক্ষার্থীই বিদেশে পড়তে যাবেন না। বরং বিদেশ থেকে আরও বেশিসংখ্যক শিক্ষার্থী আমাদের দেশে পড়তে আসবেন।

ইউজিসি সূত্র জানায়, ২০২১ সালে ২০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থী পড়ছেন। গোপালগঞ্জে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থী ছিলেন ১৭২ জন। এরপর দিনাজপুরে অবস্থিত হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিলেন ১০৬ জন। এ ছাড়া  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৬, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৩, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৮, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৭, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৬, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২২, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ১, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২১, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসে ৮ এবং খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮ জন শিক্ষার্থী পড়ছেন।

২০১২ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ১০ বছরের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে। অন্যদিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে।

বিদেশে ক্যাম্পাস খোলার অনুমতি : দেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বিদেশে শাখা ক্যাম্পাস খোলার অনুমতি পেতে যাচ্ছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ)। বিশ্ববিদ্যালয়টিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে ক্যাম্পাস পরিচালনার বিষয়ে অনাপত্তি জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

দুবাইয়ে শাখা ক্যাম্পাস খোলার অনুমোদন চেয়ে গত ২৩ মে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) প্রস্তাব পাঠায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, যা পর্যালোচনা শেষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠায় ইউজিসি। মূলত সেই চিঠির আলোকেই গত ২ নভেম্বর অনাপত্তিপত্র জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শাখা ক্যাম্পাস সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরে পরিচালনার বিষয়ে শর্তসাপেক্ষে নির্দেশক্রমে অনাপত্তি প্রদান করা হয়েছে। শর্ত হিসেবে বলা হয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০-এর ৪৪(৬) অনুসারে বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল বা এর কোনো অংশ দেশের বাইরে প্রেরণ করতে হলে আবশ্যিকভাবে রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদন নিতে হবে। এ সংক্রান্ত সরকারের সব আর্থিক বিধিবিধানসহ অন্য বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দুবাই শাখা ক্যাম্পাসের কার্যক্রম সম্পর্কিত প্রতিবেদন প্রতিবছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে দাখিল করতে হবে বলে পত্রে শর্ত দেওয়া হয়।