শিক্ষার্থীদের আগামী বিশ্বের জন্য প্রস্তুত করছি

আমি দীর্ঘদিন বিদেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়েছি। আমি নিজের অভিজ্ঞতায় দেখেছি বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা সেখানে শিক্ষায়, গবেষণায়, শিক্ষকতায় নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছে। কিন্তু আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় স্থান পাচ্ছে না। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমে এই অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব। দক্ষ ও মেধাবী শিক্ষক রিক্রুটের মাধ্যমে এই পরিবর্তনের শুরু হতে পারে। ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শতকরা ৯০ ভাগ শিক্ষক তার নিজস্ব শিক্ষক। তারা খুবই দক্ষ এবং আন্তরিক। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনটি অনুষদের অধীনে ১৪ বিষয় রয়েছে। এগুলো বর্তমান কর্মবাজারের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। আমরা পঞ্চম শিল্প বিপ্লবের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি, সেজন্য নতুন উদ্ভাবন যেমন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, মেশিন লার্নিং, ব্লক চেইন, থ্রি ডি প্রিন্টিং ইত্যাদির পাঠ্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করে নতুন বিষয় শুরু করা ও কারিকুলাম সমন্বয় করার পরিকল্পনা রয়েছে, যেন আমাদের শিক্ষার্থীরা কর্মবাজারের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে। ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির আইন এবং সিএসই বিষয়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যায়। আমাদের টিউশন ফি এমনিতেই কম। ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে স্কলারশিপ দেওয়া হয়। কভিড-১৯ মহামারীর সময় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে আমরাই সবচেয়ে বেশি শতকরা ২০ ভাগ টিউশন ফি কমিয়েছি। মেধাবী কিন্তু আর্থিক সংকটাপন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপের ব্যবস্থা আছে। আমরা শিক্ষার্থীদের ইনোভেটিভ চিন্তার মূল্যায়ন করি, উৎসাহ দিই এবং বিকশিত করার পরিবেশ নিশ্চিত করি। ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে ২০টিরও বেশি এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজ ও ক্যারিয়ার অরিয়েন্টেড ক্লাব আছে। শিক্ষার্থীরা নিজেদের আগ্রহ ও লক্ষ্য অনুযায়ী এক বা একাধিক ক্লাবে যুক্ত হতে পারে। আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য শুধু যে উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করছি তাই নয়, আমরা তাদের বিকশিত হওয়ার পরিবেশও নিশ্চিত করছি। গবেষণার ক্ষেত্রেও আমাদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সুনামের চিহ্ন রেখে চলেছে। গবেষণাকে এগিয়ে নিয়ে শীর্ষস্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নলেজ শেয়ারিং এবং নেটওয়ার্কিংয়ের পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক মানের জার্নাল প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। আমাদের শিক্ষার্থীরা যেন বাস্তব কর্মক্ষেত্র থেকে শিখতে পারে সেজন্য তাদের বিভিন্ন শিল্পকারখানায় অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য প্রেরণ করা হয়। তাছাড়া বর্তমান কর্মবাজারের চাহিদা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকার জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিইও বা প্রধান ব্যবস্থাপককে ক্লাস নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণের পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা পঞ্চম শিল্প বিপ্লবের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি। আমরা আধুনিকতম প্রযুক্তি শিক্ষাক্রমের অন্তর্ভুক্ত করে আমাদের শিক্ষার্থীদের পঞ্চম শিল্প বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত করে গড়ে তোলার চেষ্টা করছি।